মহানগর ওয়েবডেস্ক: গত রবিবার সনিয়া গান্ধী সহ অন্যান্য বিরোধী দল নেতাদের ফোন করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। করোনার বিরুদ্ধে কীভাবে একসঙ্গেই লড়াই গড়ে তোলা যায় সেটাই ছিল ফোন করার উদ্দেশ্য। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে পাঁচটি পরামর্শ দিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া। পাঁচটি পরামর্শ ছাড়াও চিঠিতে রয়েছে প্রশংসা। যেভাবে সাংসদদের বেতন ৩০% কেটে নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকার নিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন সনিয়া।

গতকাল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, করোনা খাতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে তার ঘাটতি মেটাতে আগামী এক বছরের জন্য দেশের সকল সাংসদদের ৩০ শতাংশ বেতন কেটে নেওয়া হবে। সিংহভাগ সাংসদ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেও কংগ্রেসের কয়েকজন এবং তৃণমূলের বেশ কয়েকজন সাংসদ বিরোধিতা করেছিলেন। তাদের বিরোধিতার মূল কারণ ছিল, এক বছরের জন্য সাংসদ তহবিল স্থগিত করে দেওয়া। তবে সোনিয়া গান্ধী ঘুরিয়ে এদিন এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন। প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে তিনি লিখেন, ‘আপনার সঙ্গে যখন ফোনে কথা হয়েছিল তখন আপনি কংগ্রেসকে কোভিড ১৯-র বিরুদ্ধে লড়ার আহ্বান জানান। আপনার সেই ফোনের উত্তরেই আমি এই চিঠি লিখছি। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমি প্রার্থনা করি যেন আপনার শরীর সুস্থ থাকে। করোনার সঙ্গে যুদ্ধে প্রত্যেক ভারতীয় নিজের ব্যক্তিগত ভাবাদর্শ বাদ দিয়ে নেমেছে। প্রত্যেকেই আপনার সরকারের পরামর্শ এবং উপদেশ মেনে চলছে। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে আমরা সর্বতোভাবে আপনার সঙ্গে আছি।’

চিঠিতে দেওয়া পাঁচটি পরামর্শে সোনিয়া বলেছেন, সরকার যেন এই সময় নিজস্ব প্রচারে বিজ্ঞাপন বন্ধ রাখে। রাজধানী দিল্লির সৌন্দর্যায়নের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল সেটা করোনার খাতে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন সনিয়া। সরকারের কাছে তার আবেদন, টেলিভিশন খবরের কাগজ এবং অনলাইন মিডিয়াতে সরকার যেন অন্তত দু বছর নিজের বিজ্ঞাপন বন্ধ রাখে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে। সেই অর্থ হাসপাতাল তৈরীর কাজে লাগবে। পিপিই কিট কেনা যাবে। এবং স্বাস্থ্য খাতে তা ব্যয় করা যাবে। কেন্দ্রীয় সরকার যে বিজ্ঞাপনে প্রতিবছর ১২৫০ কোটি টাকা খরচ করে সেটাও নিজের চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

কংগ্রেস সুপ্রিমোর আরও পরামর্শ, বছর খানেকের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ ঘনিষ্ঠ আমলা এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ সফর স্থগিত রাখা রাখা হোক। এই বিদেশ সফরে কেন্দ্রের কত টাকা খরচ হয় সেই খতিয়ান ও উল্লেখ করে দিয়েছেন তিনি। করোনা ত্রাণ সংগ্রহের জন্য যে পিএম কেয়ার ফান্ড ব্যবহার করা হচ্ছে তা প্রধানমন্ত্রী বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলে ট্রান্সফার করার আবেদন জানান সোনিয়া। এতে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, এবং কোন টাকা কোন খাতে খরচ হচ্ছে তাও জানা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here