Home Featured শুভেন্দুর দাপটেই কি ব্রাত্য ‘প্রাক্তনীরা’?সৌমিত্রর পদত্যাগে উঠছে প্রশ্ন

শুভেন্দুর দাপটেই কি ব্রাত্য ‘প্রাক্তনীরা’?সৌমিত্রর পদত্যাগে উঠছে প্রশ্ন

0
শুভেন্দুর দাপটেই কি ব্রাত্য ‘প্রাক্তনীরা’?সৌমিত্রর পদত্যাগে উঠছে প্রশ্ন
Parul

মহানগর ডেস্ক: যে দিনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায়  বাংলার চার বিজেপি সাংসদ ঠাঁই পাচ্ছেন বলে রাজ্য বিজেপি জুড়ে খুশির হাওয়া বইবার কথা সেখানে তাল কাটলো যুবমোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁ এর পদক্ষেপে। নজিরবিহীন আক্রমণে বাংলায় বর্তমানে বিজেপির দুই দিকপাল বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে হারিয়ে জায়েন্ট কিলার উপাধি পাওয়া শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে জর্জরিত করে পদ থেকেই পদত্যাগ করে বসলেন তিনি। আর শুধু তাই নয়!

পদত্যাগ ঘোষণা করার পর লাইভে এসে একের পর এক যে অভিযোগ তিনি তুললেন তাতে রীতিমত অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। পদত্যাগের কারণ হিসেবে সৌমিত্র খাঁ যে সমস্ত কারণ দেখিয়েছেন তাতে বলাই যায় যেই আগুনকে অনেক কষ্টে ছাই চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাই বেরিয়ে পড়ল সর্ব সমক্ষে। বাইরে যতই ‘হাম সাথ সাথ হ্যা’ ভাব দেখানো হোক না কেন, হেস্টিংসর অন্দরমহলে যে সবকিছু ঠিকঠাক নেই তা বলাই বাহুল্য।

প্রশ্ন উঠছে শুভেন্দু অধিকারীর দাপট দলে  যেভাবে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে কি শিশির পুত্রের অনেক উত্তরসূরীই অসন্তুষ্ট? কিছুদিন আগেই দলের বিধায়ক দের নিয়ে বিধানসভায় বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে শুভেন্দু ও দিলীপ উভয় উপস্থিত থাকলেও একই সময়ে উপস্থিত ছিলেন না কেউই। প্রথমার্ধে শুভেন্দু থাকার সময় ছিলেন না দিলীপ ও দ্বিতীয়ার্ধে দিলীপের উপস্থিতির সময় ছিলেন না শুভেন্দু।

এছাড়াও একাধিকবার নিজ উদ্যোগেই দিল্লী গেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। গিয়ে জে পি নাড্ডা সহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে বৈঠক করেছেন। এভাবে রাজ্য নেতৃত্বকে এড়িয়ে দিল্লীর সাথে ‘ঘনিষ্ঠতা’ বাড়ানোকে অনেকেই যে ভালো চোখে দেখেন নি তা বলাই বাহুল্য। আর রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নিজের গুরুত্ব বাড়াতে অনেকটাই সফল হয়েছেন শুভেন্দু। সেই কারণেই দলের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করতে পেরেছেন তিনি। আর এতে অনেক নেতারই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা স্বাভাবিক।সৌমিত্রর শুভেন্দু বিরোধী বক্তব্যগুলি থেকেই তা স্পষ্ট।

মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়েও বেশ কিছু প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়েছে। বিশেষত বাবুল সুপ্রিয় ও দেবশ্রী রায় কে পদত্যাগ করতে বলায় রাজনৈতিক হিসেব নিকেশ ও জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। এদিন বাবুল সুপ্রিয় ফেসবুকে পোস্ট করেন ” when there is smoke there must be a fire” তিনি আরো বলেন, “আমি পদত্যাগ করেছি। আমাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে কথা টা বললে ভুল বলা হবে। আমার যে সতীর্থরা বাংলা থেকে মন্ত্রী হতে চলেছেন তাদের নাম আমি উল্লেখ করলাম না কিন্তু তাদের জন্য আমি খুশি। পাশাপাশি নিজের জন্য দুঃখও হচ্ছে”
তাঁর অপসারণে তিনি যে একদমই খুশি নন তা বলাই বাহুল্য। পাশাপাশি বাঁকুড়ার সাংসদ ডঃ সুভাষ সরকারও প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন। তাঁর জায়গায় বাঁকুড়ার অপর সাংসদ সৌমিত্র কে মন্ত্রীপদে নির্বাচন করা হয়নি বলেই কি সৌমিত্রর এই পদক্ষেপ? আর এর নেপথ্যে শুভেন্দুর হাত আছে বলেই কি তাঁর প্রতি সৌমিত্রর এই বিষোদগার? তবে কি এবার থেকে কেন্দ্রের সুনজরে আসতে গেলে  শুভেন্দুর গুডবুকে থাকতে হবে? উঠছে প্রশ্ন।

বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একদম ফ্রন্টফুটে খেলেছেন শুভেন্দু। নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে হারানোর পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরে নিজের এলাকায় বিজেপিকে জিতিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। আর তাই বিধানসভায় তাকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচন করে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে বিজেপি। কিন্তু শুভেন্দু কি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি তে কেবলই বিরোধী নেতা হতে এসেছিলেন! ধীরে ধীরে তার রাজ্য বিজেপির সর্বোচ্চ আসনে বসার সম্ভাবনা প্রকট হচ্ছে। আর সেই কারণেই বিজেপির অভ্যন্তরে পরবর্তী কালে গোষ্ঠীদ্বন্দের বীজ যে খোল নলচে বার করতে চলেছে, আজ সৌমিত্রের সিদ্ধান্তে তা প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here