মহানগর ওয়েবডেস্ক: করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে দ্বিতীয়বার মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার। রাতে কারফিউ, মুখে বাধ্যতামূলক মাস্ক এবং মদ্যপানহীন জীবন– করোনা ঠেকাতে এই তিনটি নিয়মের ওপর ভরসা করেই এগোতে চাইছে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা’র প্রশাসন।

মদ্যপান বন্ধ করলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ কম পড়বে এই যুক্তিতেই মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকায় সংক্রামিতের সংখ্যা আড়াই লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪০০০ রোগীর। সরকারের অনুমান বছরের শেষে এই সংখ্যাটি ৫০ হাজার পেরিয়ে যেতে পারে।

আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রকোপে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা।  একদিনে সংক্রামিতের সংখ্যার নিরিখে গত সপ্তাহের প্রথম দিকেই একটি দিন রেকর্ড গড়েছে। সংক্রামিতের মধ্যে অর্ধেকই গাওতেঙ প্রদেশের বাসিন্দা। এই গাওতেঙ প্রদেশকেই দক্ষিণ আফ্রিকার করোনাভাইরাসের এপিসেন্টার বলা হচ্ছে।

জনগণের উদ্দেশে ভাষণে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা বলেছেন, অধিকাংশ মানুষই করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সরকারকে সাহায্য করছে কিন্তু তা সত্ত্বেও বেশ কিছু মানুষ নিজেদের এবং অন্যদের প্রতি সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আচরণ করে চলেছে। ”এখনও অনেক মানুষ আছেন যারা এরই মধ্যে পার্টি করছেন, দেদার মদ্যপান করছেন, এবং মাস্ক ছাড়া ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা বা রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন”, বলে অনুযোগ করেন প্রেসিডেন্ট।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকেই দক্ষিণ আফ্রিকায় মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তিন মাস সেই নিষেধাজ্ঞা লাগু থাকার পর মাত্র কয়েক সপ্তাহ হল মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় দফার নিষেধাজ্ঞার কারণ অবশ্য সম্পূর্ণই জনস্বাস্থ্যের কারণে নয়। মদ্যপ অবস্থায় পথেঘাটে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া ও গার্হস্থ্য হিংসা বেড়ে যাওয়াও মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার অন্যতম কারণ বলে জানানো হয়েছে সরকারি সূত্রে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here