জেলা ডেস্ক: মাধ্যমিকে সে ভাবে নজর টানতে না পারলেও উচ্চ মাধ্যমিকে কার্যত বাজি মাত করে দিল দক্ষিনবঙ্গের কলকাতা লাগোয়া জেলাগুলি। এবারের উচ্চ মাধ্যমিক মেধাতালিকায় যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে ১২ জন রয়েছে হুগলি জেলা থেকে। একটি জেলা থেকে এতজনের উঠে আসা এবারে অন্য কোন জেলায় দেখা যায়নি। পাশাপাশি যে কলকাতা মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে সেভাবে চোখ টানতে পারেনি সেই কলকাতার ৭ জন পড়ুয়া এবারে উঠে এসেছে এবারের মেধাতালিকায়। এর বাইরে দুই চব্বিশ পরগনা থেকে ৩জন করে ৬জন, পূর্ব মেদিনীপুর ও নদীয়া থেকে ৪জন করে মোট ৮জন, মুর্শিদাবাদ জেলা ঠকে ২জন এবং হাওড়া জেলা ঠকে ১জন উঠে এসেছে এই মেধাতালিকায়।

এবারে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক কোন জেলার কোন কোন স্থানে রয়েছে। মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঋত্বিক কুমার সাউ পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক হ্যামিলটন হাইস্কুলের ছাত্র। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৩। তার পরেই রয়েছে ৪৮৭ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা হুগলী জেলার দুই ক্ররতি ছাত্র, উত্তরপাড়া মডেল স্কুলের সৌরদ্বীপ নাথ ও সিঙ্গুর মহামায়া হাইস্কুলের ছাত্র দিব্যদূত শাসমল। ৪৮৬ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকার পঞ্চম স্থানে এক আধজন নয় পুরো পাঁচজন উঠে এসেছে। এরা হল কলকাতার যাদবপুর বিদ্যাপীঠের ছাত্রী অভ্রদীপ্তা ঘোষ, হুগলীর পাণ্ডুয়া শশীভূষণ সাহা হাইস্কুলের ছাত্র মহম্মদ সারিফুল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর জে এন একাডেমির ছাত্র শুভাশিস ঘোষ, নদীয়া জেলার স্প্রিংডেল হাইস্কুলের ছাত্র অনিরুদ্ধ দত্ত ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট হাইস্কুলের ছাত্র শৌভিক রাজ মাইতি।

ষষ্ঠ স্থানেও রয়েছে ছয়জন। প্রত্যেকেই পেয়েছে ৪৮৫ নম্বর। এরা হল কলকাতা নব নালন্দা হাইস্কুলের ছাত্র সাগ্নিক তালুকদার, নদীয়া জেলার চাকদহ রামলাল একাডেমির ছাত্র কিশলয় সরকার, হুগলি জেলার বিনোদিনী গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী দেবদত্তা পাল, হাওড়া ঝিকড়া হাইস্কুলের ছাত্র সপ্তর্ষি মণ্ডল এবং হুগলি জেলারই আরামবাগ হাইস্কুলের ছাত্র কুণাল বিট। মেধাতালিকায় সপ্তম স্থানে দক্ষিনবঙ্গের যে দুই জন রয়েছে তারা পেয়েছে ৪৮৪ নম্বর। ওই দুজন হল কলকাতার বেথুন কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্রী দীশা ঘোষ ও হুগলি জেলার সিঙ্গুর মহামায়া হাইস্কুলের ছাত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়। অষ্টম স্থানে আবার উঠে এসেছে এক ঝাঁক পড়ুয়া। এরা প্রতিএকেই পেয়েছে ৪৮৩ নম্বর করে। এরা হল অর্ঘ্য দে(নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা), দেবজিৎ দে(বিড়া বল্লভপাড়া হাইস্কুল, উত্তর ২৪ পরগনা), দেবশুভ্র চক্রবর্তী(কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুল, মুর্শিদাবাদ), যিষ্ণু বিশ্বাস(কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট হাইস্কুল, নদীয়া), রাজশেখর চট্টোপাধ্যায়(ইছাপুর হাইস্কুল, হুগলি), বিশ্বজিৎ দত্ত(কৃষ্ণপুর আদর্শ বিদ্যামন্দির, উত্তর ২৪ পরগনা), অনন্যা ঘোষ(কাঁচরাপাড়া ইন্ডিয়ান গার্লস হাইস্কুল, উত্তর ২৪ পরগনা) ও শ্রেয়াংশ চট্টোপাধ্যায়, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা)।

নবম স্থানেও হানা দিয়েছে একঝাঁক মেধাবী। এদের প্রাপ্ত নম্বর ৪৮২। এরা হল শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়(বিদ্যাভারতী গার্লস হাইস্কুল, কলকাতা), বিকাশরাজ পাল(উত্তরপাড়া গর্ভমেন্ট হাইস্কুল, হুগলি), নিশা যাদব(অন্ধ্র অ্যাসোসিয়েশন হাইস্কুল, কলকাতা), শৌভিক চন্দ্র(আরামবাগ হাইস্কুল, হুগলি), অনুশ্রী মজুমদার(স্প্রিংডেল হাইস্কুল, নদীয়া), সৌমেন মাঝি(দেমারি হাইস্কুল, পূর্ব মেদিনীপুর) ও সঞ্চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়(দ্বারহাটা রাজেশ্বরী ইনস্টিটিউশন, হুগলি)। একই অবস্থা দশম স্থানের ক্ষেত্রেও। ৪৮১ নম্বর পেয়ে সেখানে রয়েছে দক্ষিনবঙ্গের তীর্থশঙ্খ বচ্ছর(নব নালন্দা হাইস্কুল, কলকাতা), সর্বাণী দত্ত(জাঙ্গিপাড়া বালিকা বিদ্যালয়, হুগলি), জয়েশ সাউ(নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা), সায়নী দত্ত(পাথফাইন্ডার এইচএস পাবলিক স্কুল, যোধপুরপার্ক, কলকাতা), অর্ণব কুমার মল্লিক(পোড়াবাজার, আরডিএমইউ বিদ্যালয় এইচএস, হুগলি) এবং রোহিত বেরা(তমলুক হ্যামিলটন হাইস্কুল, পূর্ব মেদিনীপুর)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here