মুখ্যমন্ত্রীকে মিথ্যা বলেছেন জেলাশাসক, তোপ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতির

0
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিনিধি, বালুরঘাট: মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভায় জেলাশাসকের বিরুদ্ধে মিথ্যে বলার অভিযোগ আনলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায়। পাশাপাশি, তিনি বলেন জেলাশাসককের কোনও নৈতিক অধিকার নেই জেলা পরিষদের কাজ নিয়ে সভাধিপতিকে বাদ দিয়ে অন্য সদস্যদের নিয়ে মিটিং ডেকে ওয়ার্ক ওর্ডারের টেন্ডার দেওয়ার নির্দেশ জারি করার। এর জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুমকি দিয়ে রাখলেন জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মোফেজউদ্দিন মিয়াঁ। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভার পরও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জেলা পরিষদের অচলাওবস্থা কাটা তো দূরের কথা, অচিরেই আইনি জটিলতায় আর ও জট পাকানোর প্রবল সম্ভবনা দেখা দিল।

শুক্রবার দুপুরে জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায় তাঁর নিজের চেম্বারে এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে জেলাশাসকের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জেলাশাসককে মিথ্যেবাদী বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই অন্য দলের সদস্যদের বলেছিলাম আসুন মিলেমিশে জেলার উন্নয়নের জন্য কাজ করি। আমাদের ডাকে তখন কেউ সাড়া দেননি। আর আজ তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। আজকে তাঁর ডাকা সাংবাদিক বৈঠকে জেলা সভাধিপতি লিপিকা রায় তৃণমূল ছেড়ে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া চার সদস্যকে পাশে বসিয়ে জেলাশাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, উনি সেদিন সভায় মুখ্যমন্ত্রীকে মিথ্যে বলেছেন। আমরা নাকি জেলা পরিষদের কাজের ব্যাপারে কোনও সহযোগিতা করছি না।

এরপরেই তাঁর পাশে বসে থাকা পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মোফেজউদ্দিন মিয়াঁ গত ৫ সেপ্টম্বর জেলাশাসককে লেখা জেলার উন্নয়নের কাজ করবার জন্য চিঠি দেখিয়ে বলেন, তারাও জেলার উন্নতি চান বলে মিলেমিশে কাজ করতে চেয়ে বার বার চিঠি দিয়েছেন জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের। কিন্তু কেউ তাদের ডাকে সাড়া তো দেননি, উলটে বলা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় সভাধিপতি-সহ অন্যান্য সদস্যরা হাজির হননি। তাঁর অভিযোগ, সভায় তাঁদের ডাকাই হয়নি। তাই সেই সভায় তাঁরা কীভাবে হাজির থাকবেন? এরপরেই তিনি বলেন, গত বুধবার জেলাশাসকের বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে যদি সভাধিপতি ও কর্মাধ্যক্ষদের অন্ধকারে রেখে কোনও অবৈধ ভাবে টেন্ডার ডাকা হয়, তবে সে বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার রাস্তায় হাঁটা ছাড়া ভিন্ন কোনও পথ তাঁদের সামনে খোলা নেই। কেন না অবৈধ ভাবে ডাকা টেন্ডারের দায় কার ঘাড়ে বর্তাবে তার আগে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন আছে বলেই মনে করি।

এদিকে, জেলা পরিষদে নিজের ঘরে বসে যখন সভাধিপতি সাংবাদিক বৈঠক করছেন, ঠিক তখন তাঁর একদা পুরনো দলের সহযোগী তৃণমূল নেত্রী তথা জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি ললিতা টিজ্ঞা তাঁর দলের জেলা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে গত সোমবার জেলা শাসকের দফতরে ডাকা বৈঠকের সিধান্ত অনুযায়ী জেলার উন্নয়নের বেশ কিছু কাজের টেন্ডার প্রকাশ করবার ব্যাপারে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরে তাঁর সঙ্গে সভাধিপতির সাংবাদিক বৈঠকে ওঠা বেশ কিছু বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি প্রথমেই জেলাশাসককে মিথ্যেবাদী বলার প্রতিবাদ করেন। পরে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর জেলাশাসকের নির্দেশ মতো বেশ কিছু কাজের টেন্ডারের ব্যাপারে কাজ সারা চলছে। কাল, পরশু টেন্ডার প্রকাশ করা হবে। যদিও পূর্ত কমার্ধ্যক্ষের অভিযোগ, এই সব টেন্ডার নানা কারণে আগেই বাতিল হয়ে গিয়েছিল। সেই কথা শুনে ললিতাদেবী বলেন, সে সময় ভোটের জন্য কাজ করা সম্ভব হয়নি। তার জন্য এতে অসুবিধে হওয়ার নয় বলে তিনি জানান।

সব মিলিয়ে আজকের সভাধিপতির সাংবাদিক বৈঠকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী ঘুরে যাওয়ার পরও তৃণমূল আর বিজেপির দড়ি টানাটানিতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের উন্নয়নের কাজের একটি ইট ও কোথাও বসবে কিনা, সে সেনিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে বলেই মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here