ডেস্ক: রাজনৈতিক জল্পনা পদত্যাগের সম্ভাবনা ফুঁৎকারে উড়িয়েছেন কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু পারিবারিক ঝঞ্ঝাট পিছু ছাড়েনি তাঁর। স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মনোমালিন্য ও ডিভোর্সের আপিল করার পর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁর সম্পর্ক নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে। এরই মাঝে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব নিয়ে খোলামেলা স্বীকারোক্তি দিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব অনেকের কাছে নানান মুখরোচক জল্পনার বিষয়, তবে ও যদি শোভন না হয়ে শোভনা হত তাও আমাদের বন্ধুত্বে কোনও খামতি থাকত না।’

শুধু তাই নয়। তাঁর কথায়, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মা বলে সম্বোধন করেন মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকতেন তিনি। একটা সময় ছিল যখন অত্যন্ত খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন শোভন। সেই সময় ওঁকে আমি বুঝিয়েছিলাম, মা বলে ডাক ওনাকে। তোমার কিছু হয়ে গেলে ওনার কি হবে। উনি কষ্ট পাবেন দুঃখ পাবেন।’ শুধু তাই নয়, সম্প্রতি অধ্যাপিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিয়ে শোভনবাবুর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ‘উনি আমাদের কোনও পারিবারিক বন্ধু নন। উনি শুধু শোভনবাবুর বন্ধু।’ তাঁর সেই দাবিকে সম্পূর্ণ খণ্ডন করে এদিন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘উনি(রত্না চট্টোপাধ্যায়) সম্পূর্ণ ভুল কথা বলছেন। ওনাদের নাতির অন্নপ্রাশনে আমি গিয়েছি। ওনাদের নিজেদের ঝগড়াও আমি মিটিয়েছি। আসলে অর্থের বিনিময়ে কোনও বস্তুকে বেঁধে রাখা যায়, কিন্তু মানুষকে বেঁধে রাখা যায় না। আশাকরি উনি (রত্না চট্টোপাধ্যায়) আজ সেটা ভালোই বুঝছেন। রত্নার লালসার জন্যই শোভনদার সমস্যা।’

অন্যদিকে, শোভনবাবুর সঙ্গে নিজের বন্ধুত্ব নিয়েও অপকট স্বীকারোক্তি বৈশাখীর। সরাসরি তিনি বলেন, ‘মেয়র পদটা আমার কাছে খুব ছোট। যারা একজন মেয়র ও শোভনদা শোভনদা বলে মাথা খারাপ করে তাঁরা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মাত্র ২০ শতাংশ চেনে। ব্যক্তি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ৮০ শতাংশ সম্পর্কে ওরা কেউ জানে না। একজন বন্ধু হিসাবে আমি চিনি ওকে।’ নিজের বন্ধুত্বের উপর অগাধ আস্থা রেখে তিনি বলেন, ‘আসলে রাজদ্বার থেকে শ্মশান পর্যন্ত যে সম্পর্ক টিকে থাকে সেটাই আসল বন্ধুত্ব। আমি শোভনের সেই বন্ধু।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here