তারে বোঝানো গেল না কিছুতেই, তৃণমূল ঘুড়ির শেষ সুতোটাও কেটে দিলেন শোভন

0
874

মহানগর ওয়েবডেস্ক: অভিমান পর্ব চলছিলই একইসঙ্গে চলছিল মানভঞ্জন পর্বও। তবে দিদির প্রতি অভিমান হার মানাল সমস্ত কিছুকে। তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কের শেষ যেটুকু ছিল সেটাও এবার ছিন্ন করলেন শহরের প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। গত শনিবারই শোভনের মান ভাঙাতে মোবাইল ফোনে দিদির কাননের নম্বর ডায়াল করেছিলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর মঙ্গলবার বিধানসভার মৎস ও প্রাণীসম্পদ স্থায়ী সমিতির (স্ট্যান্ডিং কমিটি) চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিলেন ‘দিদি’র প্রিয় কানন।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দূত মারফৎ বিধানসভায় নিজের ইস্তফাপত্র পাঠান শোভন চট্টোপাধ্যায়। সেই চিঠি হাতে পেয়ে বিধানসভায় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান, শোভন যে চিঠি পাঠিয়েছেন তা ভীষণ রকম সংক্ষিপ্ত। উনি লিখেছেন, ‘অনিবার্য কারণবশত আমি মৎস ও প্রাণীসম্পদ স্থায়ী সমিতির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিচ্ছি।’ তাঁর এই চিঠিতে বেশ কিছুক্ষণের জন্য গুঞ্জন শুরু বিধানসভায়। অথচ, শনিবারই শোভনকে ফোনে ধরেছিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে শোভনকে বিমানবাবু বলেন বিধানসভায় আসতে এবং সক্রিয় হতে। পাল্টা প্রাক্তন মেয়রও জানিয়ে দেন, সময় পেলে তিনি অবশ্যই আসবেন। এই ঘটনার পর শোভনের ইস্তফায় নতুন করে চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। একের পর এক মানভঞ্জনের প্রচেষ্টাতেও কাজ না হওয়ায় জল্পনা বাড়ছে তাঁর বিজেপি যোগ নিয়ে।

প্রসঙ্গত, রাজ্য রাজনীতিতে শোভন এখন লাখ টাকার হাতি। তৃণমূল সঙ্গে সম্পর্কে একের পর এক দাড়ি পড়ার পর শোভনকে দলে টানতে মুখিয়ে রয়েছে বিজেপি। এই প্রসঙ্গে শোভনের সঙ্গে একাধিকবার কথাও বলেছেন মুকুল রায়। যদিও সমস্ত জল্পনাকে অন্ধকার কুঠুরিতেই আবদ্ধ করে রেখেছেন প্রাক্তন মেয়র। অন্যদিকে, ফের তাঁকে দলে টানতে একে একে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে গিয়েছেন সুব্রত বক্সি, পার্থ চট্টোপাধায়, ফিরহাদ হাকিম ও সবশেষে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু তাতে কাজের কাজ যে কিছুই হয়নি। এদিনের ইস্তফা সেটাই প্রমাণ করল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here