ডেস্ক: দেশজুড়ে গেরুয়া ঝড়ে যে ভাঁটা পড়েনি তার প্রমাণ গতকালই মিলেছে ত্রিপুরা নির্বাচনের ফলাফলে। বিজেপির বিজয়রথ যেই গতিতে ছুটছে তাকে আটকানো যে মুখের কথা নয় তা সহজেই বুঝতে পারছেন বিরোধী শিবিরের নেতারা। রাজনীতির ময়দানে শত্রুর শত্রু যে নিজের মিত্র হয় তা ভাল করেই বোঝেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। সেই সূত্র মেনেই এবার উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর ও ফুলপুর লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন লড়তে নজিরবিহীনভাবে ২৫ বছর পর গাঁটছড়া বাঁধলেন অখিলেশ যাদব এবং মায়াবতী। একই সঙ্গে মায়াবতী এও সাফ করে দিয়েছে যে তাঁর দল বহুজন সমাজবাদী পার্টি রাজ্যসভা নির্বাচনে অখিলেশের সমাজবাদী পার্টিকে সমর্থন করবে। এই জোটের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের উপনির্বাচনে বিজেপি কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলার বিষয়ে আশাবাদী বিরোধী দলগুলি।

আগামী ১১ মার্চ উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর এবং ফুলপুরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ফল ঘোষণা হবে ১৪ মার্চ। দুটি আসনই বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গোরক্ষপুরের সাংসদ ছিলেন খোদ যোগী আদিত্যনাথ। অন্যদিকে ফুলপুরের সাংসদ উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য। তারা দুজনেই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কারণে এই উপনির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। অখিলেশ এবং মায়াবতীর রাজনৈতিক সম্পর্ক যে রীতিমতো আদায়-কাঁচকলায়, সেই বিষয়ে কমবেশি সকলেই ওয়াকিবহাল। কিন্তু বিজেপির চাপেই উল্টে-পাল্টে গিয়েছে এতদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এই ধরণের ঘটনা একেবারেই নজিরবিহীন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের রাজ্যসভার রাস্তা খোলা রাখতেই এই জোটকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছেন মায়াবতী। চলতি মাসের ২৩ তারিখ উত্তরপ্রদেশের ১০টি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মায়াবতীর দল বহুজন সমাজবাদী পার্টির মাত্র ১৯ জন বিধায়ক ক্ষমতায় থাকার ফলে তাদের পক্ষে জেতা অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে সমাজবাদী পার্টির তরফ থেকে একটি আসনে সমর্থনের প্রত্যাশা নিয়েই জোট বাঁধছেন মায়াবতী।

প্রসঙ্গত, এর আগে শেষবার ১৯৯৩ সালে জোট বেঁধে ভোট লড়েছিল সমাজবাদী ও বহুজন সমাজবাদী পার্টি। তখনও গেরুয়া বাহিনীকে রুখতেই একত্রে এসেছিল এই দুই দল। সেই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পায় ১৭৭টি আসন ও সমাজবাদী জোটের দখলে আসে ১৭৬টি আসন। এরপর আর কখনও জোট বেঁধে লড়তে দেখা যায়নি এই দুই শত্রু দলকে। অখিলেশ বহুবার খোলা মঞ্চ থেকে জোটের প্রস্তাব দিলেও প্রত্যেকবার তা ফিরিয়ে দেন মায়াবতী। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে অস্তিত্ব সংরক্ষিত রাখতে গেলে বৃহত্তর স্বার্থেই যে জোট প্রয়োজন তা বুঝে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দল।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here