football news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ইতালি আর স্পেন, বিশ্বের এই দুই দেশ আজ মৃত্যুপুরীতে পরিণত। করোনার থাবায় ইতালিতে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৭৫০০-এর ওপর মানুষ। আর এর ঠিক পরেই স্পেন। এখানেও যেন শব মিছিল চলছে। মৃতের সংখ্যা ৪০০০ ছাড়িয়েছে।

মৃত্যুপুরী স্পেনে জীবনের সন্ধান দিচ্ছেন এক যুবতী। নাম ইরাগার্টজে ফার্নান্দেজ। বাঁশি মুখে রেফারিং করেন লা লিগা ইবেরদ্রোলায়, সেদেশের মহিলাদের টপ টিয়ার টুর্নামেন্ট। এছাড়াও ছেলেদের তৃতীয় টিয়ার প্রতিযোগিতা সেগুনদা বি-র হয়ে কড়া হাতে ম্যাচ পরিচালনা করেন, যদিও পার্ট-টাইম এবং আধা পেশাদার রেফারিং করেন তিনি। আজ বাঁশির বদলে তাঁর মুখে মাস্ক। দেশের সেবায় ফুল-টাইম নার্স তিনি। করোনা বিধস্ত স্পেনে নিরলস ভাবে নিজেকে নিয়োজিত করে দিয়েছেন ইরাগার্টজে। তবুও বলছেন, “আমি খুবই সামান্য অবদান রেখেছি।”

শেষ পাঁচ বছর হলো তিনি নার্সের কাজ করেন। এখন রয়েছেন বিলবাওয়ের রেকালদে হেলথ সেন্টারে তিনি কিন্তু করোনা যেন তাঁর জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। রোগীর চাপে কার্যত ভেঙে পড়ছে স্পেনের হাসপাতালগুলি। যে কোনও মুহূর্তে আক্রান্ত হতে পারেন স্বাস্থ্যকর্মীরাও। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতি মুহূর্তে কাজ করছেন ইরাগার্টজেরা। খেলার ভাষায় বলছেন, “এই খেলায় রাশ কিন্তু আমাদের হাতে নেই। ছড়িয়ে পড়ার ভয়টা অত্যন্ত বেশি। আমরা এটা নিয়েই ঘর করছি। আর বিপক্ষে যে তাকে দেখতেও পারছি না।”

ইরাগার্টজে বলছেন যে, মাঠের বাইরে থেকেও তাঁরা হাসতে পারছেন। আজ মানুষের সমর্থনই তাঁদের অক্সিজেন জোগাচ্ছে। তিনি যোগ করলেন, “রেফারিংটা বলুন বা ফুটবল, ভীষন মিস করছি। কিন্তু প্রতি রাতে যে প্রশংসা পাচ্ছি, তা এককথায় অভাবনীয়। আমি এই হাসপাতালেই শেষ দু’বছর কাজ করছি। বিশ্বাস করুন এর আগে একবারও কেউ ধন্যবাদ বলেনি। আজ আমাদের কাজ স্বীকৃতি পাচ্ছে। এটা মন ভাল করে দেওয়ার মতো।”
শুধুই ইরাগার্টজে নন, রয়েছেন মহিলা সহকারি রেফারি জুডিট রোমানো, এখন তিনি অ্যানেস্থিওলজিস্টের কাজ করছেন। আছেন আরেক রেফারি এলেনা পেলেজ। তিনি প্রসূতি বিভাগের বিশেষজ্ঞ। মহিলা রেফারিরাই জীবনের আলো দেখাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here