অন্ধকার চোখে দেশকে মেডেল দেওয়ার স্বপ্ন, কমনওয়েলথে অংশ নিতে ব্রিটেন পাড়ি বুদ্ধর

0
276
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক,বারুইপুর: প্যারা কমনওয়েলথ গেমে জুডোতে অংশ নিতে এবার নরেন্দ্রপুর ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমী থেকে প্রথম ও একই সাথে রাজ্যে প্রথম হয়ে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে রবিবার ইংল্যান্ডে পাড়ি দিল এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বুদ্ধদেব জানা। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের বারমিংহ্যামে এই খেলার আসর বসতে চলেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের নয়াচরের  দরিদ্র পরিবারের চাষির ছেলের বুদ্ধদেবের অন্ধত্ব প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে। সাফল্যে খুশি তাঁর বাবা-মা থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক, মহারাজরা। রবিবার দুপুরে বয়েজ একাডেমীতে ইংল্যান্ডে পাড়ি দেবার আগে বুদ্ধদেবের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্বর্ধনা দেন মিশনের সম্পাদক মহারাজ স্বামী সর্বলোকানন্দজি, প্রিন্সিপাল বিশ্বজিত ঘোষ।

পূর্ব মেদিনীপুরের নয়াচরের ছেলে বুদ্ধদেব জানা। বাবা লক্ষীকান্ত জানা চাষবাসের কাজ করে। মা জ্যোৎস্না জানা সামান্য গৃহবধূ। জন্ম থেকেই দৃষ্টিশক্তিহীন বুদ্ধদেব। ২০১০ মার্চ মাসে তৃতীয় শ্রেণীতে সে ভর্তি হয় নরেন্দ্রপুর ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমীতে। বর্তমানে সে কলা বিভাগের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। ভারত থেকে বিভিন্ন রাজ্যের ২২ জন ছাত্রছাত্রী ইংল্যান্ডের বারমিংহ্যামে প্যারা কমনওয়েলথ গেমে জুডোতে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রথম বুদ্ধদেব জানাই ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছে। একাধারে নরেন্দ্রপুর ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমী থেকেও প্রথম বুদ্ধদেব অংশ নিল এই বিশ্ব স্তরের প্রতিযোগিতায়। প্রথমে সাঁতারের প্রতি আগ্রহ ছিল বুদ্ধদেবের। ২০১৩ সালে ব্যাঙ্গালরে জাতীয় প্যারা সাঁতার প্রতিযোগিতায় ২ টি ব্রোঞ্জ, ১ টি সিলভারের পাশাপাশি ২০১৫ সালে বেলগাঁওতে জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ২ টি ব্রোঞ্জ ও ২০১৭ তে জয়পুরে ও উদয়পুরে সাঁতার প্রতিযোগিতায় ৩ টে গোল্ড, ১ টি সিলভার পদক পায় বুদ্ধদেব। এর পাশাপাশি ২০১৫ সাল থেকেই প্রশিক্ষক দিব্যেন্দু হাটুয়ার কাছ বিনা পয়সায় জুডোতে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেছিল বুদ্ধদেব।

এই ব্যাপারে সদাহাস্য বুদ্ধদেব নিজেই জানায়, মাধ্যমিকের ছুটির পর গ্রামে গেলে পুকুরেই সাঁতার হতো। কোন সুইমিং পুল পায়নি। এর পরে ২০১৯ জানুয়ারিতে গোরক্ষপুরে জাতীয় প্যারা জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে গোল্ড পায়। এরপর থেকেই নির্বাচকমণ্ডলীর নজরে পড়ে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন ছাত্র। তারপর  থেকেই জুডোতে বেশি করে মন দেয়। সে জানায়, “চার বছর ধরে জুডো প্রশিক্ষন নিচ্ছি। ভারতের হয়ে এই রাজ্য থেকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। এর জন্য সব কৃতিত্ব প্রশিক্ষক ও আমার ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমীর প্রিন্সিপালের। আমার স্বপ্ন সকলের আশীর্বাদে জয়ী হব,দেশের, রাজ্যের মান রক্ষা  করবো। এর পরে টোকিও অলিম্পিকেও যাওয়ার ইচ্ছা আছে।”  ছাত্রের সাফল্যে খুশি ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমীর প্রিন্সিপাল বিশ্বজিত ঘোষ। তিনি বলেন, “বুদ্ধদেব আমাদের মুখ উজ্জল করেছে। এদিন দিল্লি যাচ্ছে, সেখান থেকে সোমবার পাড়ি দেবে ইংল্যান্ডে। আমরা চাই বুদ্ধদেব সফল হয়ে ফিরে দেশের মুখ উজ্জল করুক।” মিশনের ছাত্রদের সাফল্যে খুশি মিশনের সম্পাদক মহারাজ স্বামী সর্বলোকানন্দজি। তিনি বুদ্ধদেবের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলেন, ভাবাই যায় না এই সাফল্য। আমাদের দৃষ্টিমান ছেলে যাচ্ছে ইংল্যান্ডে, বড় গর্ব হচ্ছে। আমাদের ছেলেরা সাঁতারে সাফল্য পেয়েছে। আরও এগিয়ে যাক বুদ্ধদেব। ছেলের সাফল্যে খুশি বুদ্ধদেবের বাবা-মা এদিন স্কুলে এসে ছেলেকে নিয়েই তাঁকে ছাড়তে হাওড়ার উদ্দ্যেশে রওনা দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here