ডেস্ক: ছাত্র নিগ্রহের ঘটনার পর সেন্ট পলস কান্ডে ৫ অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু জেলায় জেলায় পুলিশের তল্লাশি অভিযানের পরও কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি সেন্ট পলস কান্ডের অভিযুক্তদের। অবশেষে রীতিমতো জাল পেতে ৫ অভিযুক্ত ছাত্র নেতার গ্রেপ্তারির পর কিছুটা হলেও মুখ রক্ষা হল রাজ্য সরকারের।

জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে বেড়ানো এই অভিযুক্তরা রাজ্যের কঠোর অবস্থানের জেরে ক্রমশই কোণঠাসা হয়ে পড়ছিল। বাধ্য হয়ে তাঁরা ছাত্র পরিষদের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে এবং আগাম জামিনের আবেদন জানায় আদালতে। বুধবার সেই মামলার শুনানির আগে মঙ্গলবার রাতে জগৎ সিনেমার কাছে নিজেদের আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে অভিযুক্তরা। একইসঙ্গে ছাত্রনেতা সন্দীপ ঘোষের সঙ্গেও দেখা করে তাঁরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, মঙ্গলবার রাত্রি ৯ টা নাগাদ সন্দীপ ও পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের তালিকায় রয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএমসিপি নেতা আবদুল কায়ুম মোল্লা, কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অভিজিৎ দলুই, দুই বহিরাগত এনামুল হক ও অর্ণব ঘোষ এবং অস্থায়ী অশিক্ষক কর্মী অনন্ত প্রামাণিক।

উল্লেখ্য, কলেজের টাকার হিসাব চাওয়ার অভিযোগে এক ছাত্রকে নগ্ন করে হেন্সথা করা হয় সেন্ট পলস কলেজে। সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে বিতর্ক। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত অশিক্ষক কর্মীকে সাসপেন্ড করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ঘটনার তদন্তে ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়েছে কলেজ পরিচালন সমিতি। ঘটনায় দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীও। অভিযুক্তদের খোঁজে মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান-সহ রাজ্যের নানা জেলায় তল্লাশিও চালায় পুলিশ। টানা বেশ কয়েকদিন পুলিশের কালঘাম ছুটিয়ে অবশেষে জালে অভিযুক্তরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here