news bengali

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা: আমপানের তাণ্ডবে কলকাতা সহ দুই ২৪ পরগনা জেলা এবং হাওড়া ও হুগলি জেলায় চূড়ান্ত ভাবে বিপর্যস্ত জল, বিদ্যুৎ ও মোবাইল-ইন্টারনেট-ফোন পরিষেবা। এই পাঁচ জেলায় বিদ্যুৎ পরিষেবা যে কার্যত ভেঙে পড়েছে সেটা এদিন স্বীকার করে নিলেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কারণ হিসাবে উঠে এসেছে এই জেলাগুলির প্রায় ৯০ ভাগ সাবস্টেশন আপমানের দাপটে ক্ষতিগ্রস্থ। বিদ্যুতবাহী তার ছিঁড়ে পরিষেবা চূড়ান্ত ভাবে বিপর্যস্ত এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে কিছু কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা রাখার ঘটনা। তবে তারই মধ্যে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম আগামী ৭ দিনের মধ্যে কলকাতাকে আবার সচল করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে রাজ্যের ৬০ শতাংশ সাবস্টেশন বিপর্যস্ত। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি, এই পাঁচ জেলায় বিদ্যুৎ পরিষেবা নেই বললেই চলে। সেই সঙ্গে নদিয়া, দুই মেদিনীপুর, মালদা, বীরভূম-সহ একাধিক জেলায় আংশিক ভাবে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। আপমান বিধ্বস্ত জেলাগুলির মোট ২৩৫টি সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঝড়ের দাপটে। শুক্রবারের মধ্যে ১৪৯টি সাবস্টেশনকে সক্রিয় করতে পেরেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। রাজ্যের প্রায় ১ কোটি গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুৎ পরিষেবা চূড়ান্তভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের ১৫-২০ হাজার কর্মী পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছেন।

এদিকে, ৪৮ ঘণ্টা পরেও কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও বিদ্যুৎ ও পানীয় জলহীন। দুর্ভোগে দিশেহারা শহরবাসী। ক্ষোভের জেরে শুক্রবার বাইপাস, বেহালা, তপসিয়া, যাদবপুর, খিদিরপুরে রাস্তা অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ জনতা। শহরবাসীর অভিযোগ, সিইএসসির টিম ঢিমেতালে কাজ করছে। পুরসভা গাছ সরাচ্ছে না এই অজুহাতে তারা বিদ্যুৎ দিচ্ছে না। বারবার ফোন করলেও সিইএসসি সাড়া দিচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দারা। ফলে কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন। কলকাতার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সিইএসসি’র সঙ্গে এদিনই বৈঠকে বসেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। তবে সিইএসসির তরফে রাত পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি এই বেহাল পরিষেবা নিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here