kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতি ছাড়া কিছু করেন না। এখন বলির পাঁঠা করা হচ্ছে সিইএসসিকে!’ সোমবার এভাবেই ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আমফানের পর কেটে গেছে পাঁচদিন। তারপরেও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে শহরের বেশ কিছু এলাকা। দায় কার তা নিয়ে সোমবারও সরগরম হয়ে থাকল রাজনীতির আঙিনা।

রাজ্য বিজেপির সভাপতির অভিযোগ, ‘আগে থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে তৈরি করতে হতো। পরে সেনাকে কে নামাতে বাধ্য হল রাজ্য সরকার। কিন্তু এত দেরি কেন সেনা নামাতে!’ এরপরে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘গোটা ঘটনাটাই নাটক। আসলেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা নেই। মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসক হতে পারেন না, মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতি ছাড়া কিছু করেন না। মন্ত্রীরাও রাজনীতি ছাড়া কিছু করেন না। আর দলের লোকরা চাল চুরি করতেই ব্যস্ত। যে সমস্ত ক্লাবে টাকা দেওয়া হয়েছিল ক্লাবের ছেলেরা কই!’

দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘দায় এড়াতে চাইছে সরকার। তাই এখন সিইএসসিকে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে। একইভাবে কর্পোরেশনের দোষ চাপতে বলির পাঁঠা করে কমিশনারকে সরানো হল। মন্ত্রীরা ঝড় দুর্ভোগ নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নয়। খুবই নিন্দনীয় রাজনীতি।’ এই গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি চিঠি পাঠাচ্ছেন বলেও জানান রাজ্য বিজেপি সভাপতি। চিঠিতে উল্লেখ করা হবে, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান যেন ঠিক খাতে ব্যবহার হয়। অনুদান যেন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়,  এই আবেদনও করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০ মে শহরের বুকে ধ্বংসলীলা চালিয়ে গেছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। তারপরে কেটে গিয়েছে আরও পাঁচ দিন। তবু বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে শহর ও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। এই অবস্থায় জল ও বিদ্যুতের জন্য পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। এই অবস্থার জন্য সিইএসসিকেই দায়ী করেছে রাজ্য সরকার তথা কলকাতা পুরসভা। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ না ফেরানোর জন্য প্রথম থেকেই অনেকাংশে পুরসভাকে দায়ী করছিল সিইএসসি। যদিও পরে লোকবলের অভাবের কথা জানানো হয় সিইএসসির তরফে। তবে সিইএসসির এই ‘ঢিলা ভাব’ যে আর কোনভাবেই মানা হবে না, তা এদিন কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন প্রশাসক তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here