kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যায়ের সহ-উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরু হল রাজ্যপালের। সোমবার ১ জুন রাজ্যপাল বর্ধমান বিশ্ববিদ‌্যালয়ের সহ-উপাচার্য হিসাবে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর গৌতম চন্দকে নিয়োগ করেন। এব্যাপারে রাজ্যপালের পক্ষ থেকে নির্দেশিকাও জারি করা হয়। সোমবার রাজ্যপালের এই নিয়োগপত্র রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরে পৌঁছনোর পরই শুরু হয় তোলপাড়। রাজ্যপালের এই নিয়োগের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য উচ্চশিক্ষা দফতর তড়িঘড়ি সোমবার রাতেই সহ উপাচার্য হিসাবে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আশিস কুমার পাণিগ্রাহীকে নিয়োগপত্র দেয়।

রাজ্য উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে নির্দেশিকা দিয়ে জানানো হয়, করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন স্বাভাবিক রাখতে এবং প্রশাসনিক কাজকে সাবলীল রাখতে এর আগেই দু’বার রাজ্যপালের কাছে ৩জনের নাম প্রস্তাব করে পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি তা নাকচ করে রাজ্য উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই একতরফা নিজের পছন্দমতো গৌতম চন্দকে সহ উপাচার্য হিসাবে নিয়োগপত্র দিয়েছেন। যা কার্যত রাজ্যপাল আইন ও নিয়মকে লঙ্ঘন করেছেন। এরপরেই রাতারাতি আশিস কুমার পাণিগ্রাহীকে নিয়োগপত্র পাঠিয়ে তাঁকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য হিসাবে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর মঙ্গলবার সকালেই  আশিসবাবু বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য হিসাবে যোগ দেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই তৃণমূল ছাত্রপরিষদের সমর্থকরা উপাচার্যের ঘরের সামনে হাজিরও ছিলেন। অনেকেই মনে করছেন রাজ্যপাল মনোনীত গৌতমবাবু যাতে এদিন ওই পদে যোগ দিতে না পারেন সেজন্যই এদিন সকাল থেকেই উপাচার্যের ঘরের সামনে পাহারায় বসে যান তৃণমূলপন্থী ছাত্রছাত্রীরা। আশিসবাবু এসে সহ উপাচার্য পদে যোগ দেন। এদিন আশিসবাবু জানিয়েছেন, তিনি সবার আগে ছাত্রছাত্রীদের কথাই ভাববেন। স্বাভাবিক ভাবে তাঁদের পড়াশোনা যাতে হয় সে বিষয়টিতেই নজর দেবেন। যদিও তাঁর এই নিয়োগ নিয়ে বা গৌতম চন্দের সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে তিনি বিশদ কিছু বলতে চাননি।

অপরদিকে, গোটা পরিস্থিতিতে এদিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিমাইচন্দ্র সাহা জানিয়েছেন, এদিন আশিসবাবু সহ উপাচার্য হিসাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। রাজ্যপালের নির্দেশ বা উচ্চশিক্ষা দফতরের নির্দেশিকা সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, তিনি এব্যাপারে কোনও মন্তব্যই করবেন না। অপরদিকে, এই ঘটনা সম্পর্কে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত প্রফেসর গৌতম চন্দ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তিনি হাতে কোনও নিয়োগপত্র পাননি। পেলে তখন বিবেচনা করবেন। সেক্ষেত্রে রাজ্যপালের ওই চিঠি পেয়ে তিনি ওই পদে যোগ দিতে যাবেন কিনা তাও ভাববেন। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই গৌতমবাবু ১১টি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০১৭ সালে শিক্ষক দিবসে তাঁকে শিক্ষারত্ন পুরস্কার দিয়েছে রাজ্য সরকার। বস্তুত, বিতর্কের মাঝেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সহ উপাচার্য হিসাবে যোগ দিলেন আশিস কুমার পাণিগ্রাহী। এর আগে এই পদে ছিলেন ষোড়শীমোহন দাঁ এবং মহুয়া সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here