kolkata news

Highlights

  • রাজ্য সরকার রাজ্যের পাঁচ বন্যাপ্রবণ জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে
  • যার ব্যয় ধার্য করা হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা
  • ২৭ লক্ষের বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: রাজ্য সরকার রাজ্যের পাঁচ বন্যাপ্রবণ জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, হাওড়া, হুগলি এই পাঁচ জেলাকে নিয়ে এই প্রকল্প শুরু করা হচ্ছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। যার ব্যয় ধার্য করা হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। ওই প্রকল্প রূপায়িত হলে সংশ্লিষ্ট জেলার ২৭ লক্ষের বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন।

জানা গিয়েছে, ২ হাজার ৯৩২ কোটি ২ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ জেলার বানভাসি চিত্র এবং ওই অংশকে সেচ-সেবিত করার কাজ চলতি মাস থেকেই শুরু হচ্ছে। যার মধ্যে ৩৫ শতাংশ দিচ্ছে বিশ্বব্যাঙ্ক, ৩৫ শতাংশ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক এবং বাকি ৩০ শতাংশ অর্থ যোগাবে রাজ্য সরকার। অর্থদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চুক্তি অনুসারে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই খাতে নেওয়া ঋণের টাকা রাজ্যকে শোধ করতে হবে না।

সাত দশক আগে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নিম্ন দামোদর উপত্যকায় বিস্তীর্ণ এলাকার চাষের জমিতে জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ হচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত আধুনিকীকরণ, সংস্কারের অভাবে বর্তমানে সেচ পরিষেবা অনেকটাই ব্যহত হয়েছে। ফলে চাষের জমিতে জল যোগাতে অবাধে পাম্প চালিয়ে ভূ-গর্ভস্থ জল তোলা হচ্ছে। যার কুফল হিসাবে আগামীদিনে ওই অংশে মাটির জলস্তর একেবারে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পানীয় জলে আর্সেনিকের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।

নবান্নের এক কর্তার কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগের ফলে নিম্ন দামোদর অববাহিকার উপর অবস্থিত বিরাট অংশকে সেচ-সেবিত করা সম্ভব হবে। সমস্ত জমিতে সেচের জল পৌঁছনোর বিষয়টি সুনিশ্চিত করা যাবে। বন্যার চিত্র বদলের জন্য চলতি মাস থেকেই ওই পাঁচটি জেলার বানভাসি হওয়ার মূল কারণ – মুণ্ডেশ্বরী ও আমতা চ্যানেলের আমূল সংস্কারের কাজ শুরু হবে। ওই কর্তার কথায়, বর্তমানে মুণ্ডেশ্বরীর নাব্যতা একেবারে কমে গিয়েছে। যার জেরে মাইথন-পাঞ্চেত থেকে সামান্য জল ছাড়লেই তা উপচে পড়ে গোটা এলাকা ভাসিয়ে দেয়। একই সঙ্গে আমতা চ্যানেলের ডানদিকের পাড় দিয়েই প্রথম বর্ষার জল ঢোকে বলে দাবি ওই কর্তার। কিন্তু ওই অংশে উঁচু বাঁধ না থাকাই মূল সমস্যা।

এই প্রকল্পে বিপজ্জনক ওই অংশে নতুন বাঁধ তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে এলাকায় সেচের জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রকল্পের অন্তর্গত এলাকার প্রতিটি ছোট-বড় খালের পূর্ণ সংস্কার করা হবে। নবান্ন সূত্রের দাবি, সম্প্রতি রাজ্যের প্রধান সচিবালয়ে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানেই এই মেগা প্রকল্পের অনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ দপ্তরের এক কর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্যে এত বড় সেচ প্রকল্প হয়নি। জানা গিয়েছে, সামনের বর্ষার মরশুমে এই প্রকল্পে থেকে লাভবান হবেন ফি-বছর বানভাসি হওয়া কয়েক লক্ষ মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here