ফারুখ মোল্লা, বারুইপুর: সাবস্টেশনকে ঘিরে আন্দোলন এখন কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে বললেই চলে। পঞ্চায়েত ভোটে এলাকার মানুষও খালি হাতে ফেরায়নি শাসক শিবিরকে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের সন্তোষজনক বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে। তাই অনেকেই ভেবেছিলেন এবার জেলা পরিষদে ক্ষমতার অলিন্দে কর্মাধক্ষ্যের মত পদে হয়ত ভাঙড়ের কাউকে দেখা যেতে পারে। কিন্তু সে সম্ভাবনা আর আশা যে নিরাশার পথেই হাঁটা দিয়েছে তা বেশ ভালই বুঝে গিয়েছেন ভাঙড়ের দুটি ব্লকের প্রায় ৫০হাজার মানুষ।

ভাঙড়ের দুটি ব্লকের চারটি আসন থেকে জেলা পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন চারজন তৃণমূল প্রার্থী। এরা স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় এদের সঙ্গে ভূমিপুত্রের ইস্যুও জুড়ে গিয়েছিল। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ভাঙড়বাসীর আশা ছিল হয়ত কেউ পেতে পারেন জেলা পরিষদে কর্মাধক্ষ্যের পদ। আর এই আশা কার্যত দাবি হয়েও উঠে আসছিল। কারণ বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে যিনি জয়ী হয়েছেন সেই আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা যিনি আবার রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তরের মন্ত্রীও, তিনি ক্যানিংয়ের বাসিন্দা। তাই তার গায়ে বহিরাগতের তকমা আজও লেগে রয়েছে। তিনি জয়ী হবার পর ভাঙড়ে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়, ভাঙড় কি শুধু মাত্রই বহিরাগতদের জন্য নিশ্চিত আসন? ভাঙড়ের উন্নয়নের জন্য ভাঙড়ের ভুমিপুত্ররা কেউ জেলা বা রাজ্য স্তরে কি যাবে না? পরিবর্তনের জমানায় আজও ভাঙড় কি সেই তিমিরেই থেকে যাবে? পরিবর্তনের সাত বছর বাদে আজও ভাঙড়ের আনাচে কানাচে ঘুরলে অনুন্নয়ন এর ছবি স্পষ্ট ধরা দেয়। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। চলাচলের অযোগ্য বলা চলে। কোথাও বড় বড় গর্ত তো আবার কোথাও পিচ উঠে কঙ্কালসার অবস্থা। কয়েকটি জায়গায় নতুন রাস্তা হলেও তা ভাঙড়ের আন্দোলনের ফসল বলে মনে করেন ভাঙড়বাসি।

কলকাতার উপকন্টে ভাঙড়ের অবস্থান হওয়া শর্তেও ভাঙড় আজও কেন পিছিয়ে? কেনই বা ভাঙড়ের রাস্তাঘাটের এহেন বেহাল দশা? বিধায়ক হক বা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ। বরাবরই বহিরাগত দের সেভ জোন হিসাবে পরিচিত ভাঙড়। এই ভাঙড় থেকে ২০১৬ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হন ক্যানিং পূর্বের বাসিন্দা রেজ্জাক মোল্লা। তিনি এখনও ভাঙড়বাসীর ঘরের লোক হয়ে উঠতে পারেনি। তাকে নিয়ে ভাঙড়বাসির আশা-ভরসা অনেক থাকলেও তিনি তা পূরন করতে অক্ষম বলে জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। অপরদিকে ২০১৩ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনে বারুইপুর থেকে আবু তাহেরকে জেতানোর জন্য ভাঙড়-২ ব্লকে দাঁড় করানো হয়। বিপুল ভোটে জয়লাভ করে জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন তিনি।কিন্তু তিনিও ভাঙড়ের দিকে ফিরেও তাকায়নি বলে অভিযোগ। যার ফলে ভাঙড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় রাস্তার এহেন বেহাল দশা। তাই অনেকেরই আশা ছিল যদি জেলা পরিষদের চার জয়ী প্রার্থীর হাত ধরে উন্নয়নের মুখ দেখে ভাঙড়। কিন্তু সেই সৌভাগ্যের আশা নেই বললেই চলে। কারণ দলীয় সুত্রে জানা গিয়েছে জেলা পরিষদে যে কর্মাধক্ষ্যরা দায়িত্ব পেতে চলেছেন তাতে ভাঙড়ের কারও নাম নেই। তাই আবারও বঞ্চিত ভাঙড়!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here