kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তর দিনাজপুর: একেই বোধহয় বলে বিপদ যখন আসে, তখন সব দিক থেকেই আসে। মায়ের শরীর খারাপ শুনে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন বাংলাদেশে। চেয়েছিলেন দিদিমাকে দেখে আসুক ছেলে। ছেলে শ্যামল পাল এখন লকডাউনে বাংলাদেশেই আটকে পড়েছেন৷ এদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুরে শ্যামলের বৃদ্ধ বাবা শিরীশ চন্দ্র পাল এবং মা জোৎস্নারানি পাল দু’জনেই কিডনির সমস্যায় জর্জরিত। চিকিৎসা করানো ও দেখভালের লোকের অভাব।

তাই কার্যত বাধ্য হয়েই উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের গোয়ালপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। প্রশাসনিক সাহায্য চাইতে দক্ষিণ দিনাজপুর যেতেও সমর্থ নন রোগাক্রান্ত ওই দম্পতি। এখন শুধুই দিশাহারা হয়ে হাহাকার করে ছেলেকে দেশে ফেরানোর জন্য বিলাপ করছেন তারা। অভিভাবকহীন অবস্থায় দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরে বসতবাড়িটাও পড়ে আছে। সব মিলিয়ে বিপদে পড়ে চরম দিশাহীন ওই রোগাক্রান্ত দম্পতি।

বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার আত্রেয়ী থানার মির্জাপুরে আটকে পড়া শ্যামল পড়েছেন চরম বিপদে৷ ভারতের হাইকমিশন অফিসে যোগাযোগ করলে জানাচ্ছে, এখনও হিলি বর্ডার খোলেনি। ভিডিয়ো কলে বাবা-মাকে দেখে শুধুই খবর নিতে পারছেন ছেলে শ্যামল পাল। বাবা-মায়ের এখন একটাই আর্জি, আটকে পড়া দেশের ছেলেকে দেশে ফেরাক সরকার৷

একটি ছোট দশকর্মার দোকান চালিয়ে সংসার চালানো রায়গঞ্জ গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা শ্যামলের জামাইবাবু স্বপন চাকী পড়েছেন সমস্যায়৷ শ্যালক শ্যামল মার্চ মাসের ১ তারিখ বাংলাদেশে গিয়ে আটকে পড়ায় প্রায় ৪ মাস ধরে রোগাক্রান্ত শ্বশুর-শাশুড়ি জামাইয়ের বাড়িতেই আছেন। লকডাউনে সংসার টানতেই হিমসিম খাচ্ছিলেন। বিপদগ্রস্ত শ্বশুর-শাশুড়িকেও না দেখে উপায় নেই৷ দিশাহার অবস্থা তারও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here