নিজস্ব প্রতিবেদক, বর্ধমান: অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো বর্ধমান শহরে। মৃত ছাত্রের নাম জিৎ সাহা(১৩)। বাড়ি বর্ধমান শহরের বড়নীলপুর খেলার মাঠ এলাকায়। মৃতের বাবা বিপ্লব সাহা দিন মজুর, মা যমুনা সাহা পরিচারিকার কাজ করেন। জিৎ বড়নীলপুরের আচার্য্য দুর্গাপ্রসন্ন বিদ্যামন্দিরের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

এদিন যমুনা সাহা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তারা সকলেই কাজে বের হয়ে যাবার জন্য তৈরী হয়েছিলেন। এদিন জিৎই তাদেরকে চা করে খাওয়ায়, নিজেও খায়। সকাল ৭টা নাগাদ স্থানীয় শালবাগান এলাকায় এক গৃহশিক্ষকের কাছে তার টিউশন পড়তে যাবার কথা থাকায় সেও বেড়িয়ে পড়ে তাদের সঙ্গে। জিতের বাবা বিপ্লব সাহা জানিয়েছেন, তিনি যমুনাদেবীকে কাজে নামিয়ে দিয়ে নিজে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে যাবার সময় রাস্তায় তার সঙ্গে জিতের দেখা হয়। জিত তাকে জানায়, পায়ে ব্যাথার জন্য সে টিউশন পড়তে যেতে পারছে না। তা শুনে বিপ্লববাবু ছেলেকে বাড়ি ফিরে পড়তে বসার কথা বলেন। এরপরই তিনি কাজে চলে যান।

অব্যদিকে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এদিন জিৎ বড়নীলপুরের সপ্তরথী ক্লাবের কাছে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে দেখাও করে। দীর্ঘদিন তারা ওই এলাকাতেই ভাড়া থাকত। গত মাসখানেক আগে খেলারমাঠ এলাকায় চলে যায়। কিন্তু এদিন তার আচার আচরণে কোন পরিবর্তনই তারা লক্ষ্য করেননি। যমুনাদেবী জানিয়েছেন, অন্যান্যদিনের থেকে এদিন তিনি একটু আগেই পরিচারিকার কাজ সেরে বাড়ি ফিরে দেখেন ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। এরপর তিনি দরজার শেকল ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখেন গামছার ফাঁসে ঝুলছে জিতের দেহ। তার চিৎকারে ছুটে এসে প্রতিবেশীরা জিতকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিত্সক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু কি কারণে জিৎ আত্মঘাতী হল তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। জিতের বাবা মা সহ এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। তাকে বকাবকিও করা হয়নি। কিন্তু কি কারণে তার এই আত্মহত্যা তা বুঝে উঠতে পারছেন না তারাও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here