ডেস্ক: শুক্রবার বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানুড়িয়া ছাইপুকুর পরিদর্শন করলেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। পরিদর্শন শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানান,‘পানুড়িয়া ছাইপুকুর থেকে দূষণ ছড়াচ্ছে। তাই সুপ্রিম কোর্টে দূষণ নিয়ে পিটিশন দাখিল করা হবে’। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে বেশ চাপে পড়তে চলেছে বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। কারণ ছাইপুকুরের দূষণ নিয়ে আগেই মামলার মুখে পড়তে হয়েছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে। আদালতের নির্দেশে ছাইপুকুর জনিত সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে ফেলার কথা তাদের। কিন্তু বাস্তবে সেই সমস্যা এখনও মেটাতে পারেনি তারা। তার জেরে কয়েক দিন আগেই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে রাস্তা অবরোধে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। সুপ্রীম কোর্টে মামলা দায়ের হলে যে কোন মুহূর্তে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করার নির্দেশ নেমে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,’রক্ত দিয়ে গড়ব মোড়া সাধের বক্রেশ্বর’ এই শ্লোগান তুলেই নয়ের দশকে রাঙ্গামাটির জেলা বীরভূম সহ গোটা রাজ্যেই ঝড় তুলেছিল বামেরা। বাংলার মসনদে তখন জ্যোতি বসু। শিল্প গড়ে বেকারত্ব ঘোচানোর স্বপ্ন আর বিদ্যুৎ পরিষেবার উন্নতি বিধানে গড়ে তোলা সেই আন্দোলনের নিট ফলটা ভোটবাক্সে বেশ ভালই তুলেছিল বামেরা। তারপর বীরভূম জেলার সিউড়ী-২ ব্লকের ভুরকুনা আর দুবরাজপুর ব্লকের চিনপাই গ্রামে বাম আমলেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ২১০ মেগাওয়াটের ৫টি ইউনিট। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই ফেলার জন্য চিনপাই গ্রাম পঞ্চায়েতের পানুড়িয়া গ্রামে গড়ে তোলা হয় বেশ বড় আকারের জলাশয়। প্রথমে ঠিক হয়েছিল পুকুরে জমা হওয়া ছাই তুলে তৈরি করা হবে ইট যা দিয়ে গ্রাম ও শহর এলাকায় বাড়ি তৈরি করা হবে। কিন্তু বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও সেই ছাই থেকে ইট তৈরির প্রকল্প আর দিনের আলোর মুখ দেখতে পায়নি। ফলে বছরের পর বছর সেই ছাই পুকুরে ছাই জমতে জমতে উপচে উঠে বাইরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। ছাই পুকুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে সেই গরম ছাই মিশে নদীর জল দূষিত করে তোলার পাশাপাশি নদীর বাস্তুতন্ত্রের প্রভূত ক্ষতিসাধন করেছে। আবার হাওয়াতে গরম ছাই উড়ে গিয়ে ছাড়িয়ে পড়েছে বিঘার পর বিঘা ফসল ভরা জমিতে। তার ফলে নষ্ট হয়েছে জমির উর্বরতাও। তা নিয়ে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ নানা সময়ে বেরিয়ে এসেছে। মামলাও হয়েছে তা নিয়ে। কিন্তু সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের পথে হাঁটার চেষ্টাই করেনি বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এবার সুভাষ দত্ত সুপ্রীম কোর্টে পিটিশান দাখিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here