kolkata bengali news

নিসর্গ নির্যাস: আজ দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। ঠিক হয়েছিল, তিনি দিল্লিতে বসবেন প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকে। দুপুর ২ টো ৪৫ মিনিটে বিমানে ওঠার কথা ছিল। এমনটাই জানা গিয়েছিল বিশ্বস্ত সূত্রে। কিন্তু আপাতত দিল্লি যাচ্ছেন না শুভেন্দু।

১৯ মে শনিবার মেদিনীপুরে জনসভা করছেন অমিত শাহ। এই দিনেই হাতে পদ্ম শিবিরের পতাকা তুলে নেবেন শুভেন্দু। ঘনিষ্ঠ মহলে এমনটাই জানিয়েছেন অধিকারী।

গতকাল সাংসদ সুনীল মণ্ডলের বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন শুভেন্দু। উপস্থিত ছিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি, দীপ্তাংশু চৌধুরী প্রমুখ। যদিও বলা হচ্ছে, সাংসদ সুনীল মণ্ডলের মায়ের পরলৌকিক ক্রিয়ার জন্যই আগমন। তবুও রাজনৈতিক মহলের দাবি, হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বৈঠক।

মুকুল রায় দাবি করেছেন, ১০০ তৃণমূল বিধায়ক যোগদান করবেন বিজেপিতে। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে গুঞ্জন। তেমন হলে নির্বাচনের আগেই তৃণমূল সরকারের পতন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৮ জন হেভিওয়েট মন্ত্রী, ৮-১০ জন সাংসদ, ৩৫ জন বিধায়ক নাম লেখাতে পারে বিজেপিতে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি বনগাঁ সভা বাতিল করেছে মেদিনীপুরে সভা করবে বলেই। কলেজ-কলেজিয়েট ময়দানে এই সভা মমতার পাল্টা সমাবেশ হতে চলেছে। এখান থেকেই বিজেপি শিবিরের হয়ে পথ চলা শুরু শুভেন্দুর।

শুভেন্দু বারবার বলেছেন, তাঁর পরিবার বাংলা ও বাঙালির। সেই সঙ্গে এও বলেছেন, তিনি আগে ভারতীয় তারপরে বাঙালি। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিতে জয়ী হবে গ্রাম বাংলা-পথ দেখাবে জেলা, এমনটাই দাবি শুভেন্দুর।

জনসভায় নাম না করে মমতা বলেছেন, ‘যাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম তাকে দলে নিয়েছে বিজেপি’। টিকিট পাবে না জেনে, সিবিআই-এর ভয়ে, নিজের টাকা বাঁচাতে দল ছাড়ছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে সৌগত বলেন, শুভেন্দু স্বার্থ দেখেছে। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে চেয়েছে। আত্মবিশ্বাসী মদন মিত্র বলেন, মেদিনীপুর থেকে শুভেন্দু নন, বেশি ভোট পাবে দিদির তৃণমূল। অনুব্রত অবশ্য আগেই বলেছেন, দল ঠিক করেনি শুভেন্দুর সঙ্গে।

শুভেন্দু অনুগামীদের দাবি, পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য, নিঃস্বার্থ ভাবে মানুষের কাজ করার জন্য মেদিনীপুর থেকে উঠে আসছেন আগামীর মুখ্যমন্ত্রী।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আব্দুল মান্নান বলেন, স্বৈরাচারী তৃণমূল শাসনের অবসান হবে। শুভেন্দুর যাত্রা পথ শুভ হোক। অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, তৃণমূল গড়ের ধ্বংস সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

বিজেপির পক্ষ থেকে মুকুল রায় বলেন, শুধু সময়ের অপেক্ষা। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের সময় আমি বলেছিলাম শেষ মানুষকে পর্যন্ত যেন দলে টানতে পারি। এখনও তাই বলছি। প্রতি মানুষ যেন এই লড়াইয়ে সামিল হয়। পরে রাগ, অভিমান মন-কষাকষি হবে। দিলীপ ঘোষ বলেন, জোড়া ফুল দলটাই উঠে যাবে।

মনে করা হয়েছিল, দিল্লি থেকে ফিরলেই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেয়ে যাবেন শুভেন্দু। শুভেন্দু অনুগামীরা রাজ্যপালের সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করে নেতার নিরাপত্তার জন্য আবেদন জানিয়েছিল। ইতিমধ্যেই তার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। শুধু কার্যকর হওয়ার অপেক্ষা।

রাজ্য রাজনীতি তুরুপের তাস শুভেন্দু রাজ্যপালকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে পারেন। আশংকা, কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসাতে পারে। তাই আবেদন তাঁর বিরুদ্ধে যেন কোনও ফৌজদারী মামলা না করা হয়। সেই চিঠি ট্যুইট করেছেন রাজ্যপাল নিজে।

এখন অপেক্ষা শুধুমাত্র শুভেন্দুর হাতে অন্য পতাকা দেখার। আগামী নির্বাচনে লড়াই কি তবে শুভেন্দু বনাম মমতা? লড়াই মুখ্যমন্ত্রীর! রাজনীতির ময়দানে একসময়ের শরিক প্রতিদ্বন্দিতা করবেন মুখোমুখি। সরাসরি যুদ্ধ শুরু মেদিনীপুর থেকেই!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here