kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, রঘুনাথপুর: প্রায় এক দশক বাদে আবারও লোকসভা নির্বাচণে প্রার্থী হয়েছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তাও একই আসনে, বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে। এর আগে তিনি এই আসনেই তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে। কিন্তু পরাজিত হয়েছিলেন বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে টানা ৭বার জেতা সিপিআই(এম) সাংসদ বাসুদেব আচারিয়ার কাছে। যদিও সুব্রতবাবু সেবার রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়েছিলেন বাম প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এবারে বামেরা লড়াইয়ের ময়দানে থাকলেও বেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। তুলনায় জেলায় জমি বেশ ভালই দখল করেছে বিজেপি। এবারে সেই বিজেপির সঙ্গেই সুব্রতবাবুর সন্মুখসমত হতে চলেছে। বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে পা রেখে দিন দশেক আগেই প্রচার শুরু করে দিয়েছেন সুব্রতবাবু, শনিবার তিনি সেই প্রচারের উদ্দেশ্যেই পা রাখলেন পুরুলিয়ার মাটিতে।

বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে যে ৭টি বিধানসভা এলাকা রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর আসনটিও। শনিবার সেই রঘুনাথপুরেই প্রচারের জন্য এলেন সুব্রতবাবু। এদিন প্রচার শুরুর আগে রঘুনাথপুর-১ ব্লকের সাঁকড়ার মা কালী মন্দিরে পূজো দেন তিনি। এলাকার মানুষ সাঁকড়ার মা কালীকে অত্যন্ত জাগ্রত বলে মনে করেন। মায়ের কাছে পূজো দিয়ে সুব্রত মুখার্জী বলেন, ‘আজ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই এলাকায় প্রচার শুরু করলাম। দশ দিন আগেই বাঁকুড়ায় প্রচার শুরু করেছি। আমি তো আজকে ঢুকেছি, কিন্তু আমার কর্মীরা আগেই প্রচারের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। কাউকে বড় করে দেখছি না আবার কাউকে ছোট করেও দেখছি না। আমি মানুষকে বড় করে দেখি। মানুষের সিদ্ধান্তকে বড় করে দেখি। আমার আসার খবর পেয়ে বাড়ির সামনে সকলেই দেখছি দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমিও তাই সকলকে নমস্কার করলাম।’ এদিন সুব্রত মুখার্জীর সঙ্গে ছিলেন রঘুনাথপুরের বিধায়ক পূর্ণচন্দ্র বাউরি, রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ভবেশ চ্যাটার্জীর সহ আরও অনেকে।

২০০৯ সালে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে সুব্রতবাবুকে পরাজিত করে অষ্টমবারের জন্য জয়ী হয়েছিলেন বাম সাংসদ বাসুদেব আচারিয়া। কিন্তু তার ঠিক পাঁচ বছর বাদে ২০১৪ সালে সেই বাসুদেববাবুকেই পরাজিত করে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী তথা বাংলা সিনেমা জগতের তারকা মুনমুন সেন। এবারে কিন্তু তৃণমূল মুনমুনকে আর ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করেনি। তার পরিবর্তে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী সুব্রতবাবুকে প্রার্থী করা হয়েছে। সুব্রতবাবুর দফতরের প্রতিমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরাকেও এইবার প্রার্থী করেছে তৃণমূল। সেটাও আবার বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রে। একই দলের একই দফতরের দুই মন্ত্রীকে একই জেলায় লোকসভা নির্বাচণে প্রার্থী করা চট করে কোথাও দেখা যায় না। এবারে কিন্তু সুব্রত ও শ্যামলবাবুর লড়াই সেই পরিসংখ্যান কিন্তু তৈরি করে দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here