ডঃ সুজন চক্রবর্ত্তী, দলনেতা, বাম পরিষদীয় দল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা, বিধানসভা ভবন

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী,

পশ্চিমবঙ্গ সরকার, নবান্ন, হাওড়া

মহাশয়া,

কোভিড-১৯ এর সংক্রমণে রাজ্যব্যাপী মানুষ যথেষ্টই বিপর্যস্ত এবং অসহায়তার শিকার- আপনি নিশ্চয়ই তা জানেন। তার উপর সাম্প্রতিক আমফান সাইক্লোন মানুষকে বাড়তি বিপদে ফেলেছে, এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এ ক্ষেত্রে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলায় সার্বিক এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার যথেষ্ট অভাব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় টিম এরাজ্যে আসেনি। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আমফানকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এসব বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও এখনো পর্যন্ত কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না – যা যথেষ্টই দুর্ভাগ্যজনক।

এমতাবস্থায় রাজ্যের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিম্নোক্ত প্রস্তাব, পরামর্শ, এবং দাবিসমূহ দ্রুত কার্যকরী করার জন্য আপনার কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

১. বিদ্যুৎ সংযোগ সহ পুনর্গঠন এর কাজ সময়সীমা ভিত্তিক দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

২. বাড়ি, চাষ, গাছপালা সহ আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং ত্রাণবন্টনে দলবাজি বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে এমনকি শাসক দলের বিভিন্ন অংশের ক্ষমতা প্রদর্শনের কদর্য চেহারা ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বিডিও এসডিও অফিস ছাড়াও অনলাইনে দরখাস্ত গ্রহণ এবং দলমত নির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। এবিষয়ে স্বচ্ছ নীতি এবং গাইডলাইন প্রকাশ করতে হবে।

৩. কৃষকের ফসলের ক্ষতিপূরণ, ঋণমকুব, ফসলের লাভজনক দাম এবং তৎসহ গ্রামীণ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে হবে।

৪. প্রতিটি মানুষের জন্য খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক মাসিক মাথাপিছু ১০ কেজি চাল এবং পরিবারপিছু ২ কেজি ডাল দেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. ‘মাস্ক’ এবং ‘স্যানিটাইজার’ অবশ্য প্রয়োজনীয় হবার কারণে রেশনিং ব্যবস্থা মারফত সরবরাহ করতে হবে।

৬. ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি বাড়িকে আবাস যোজনার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, বাংলার আবাস যোজনা, গীতাঞ্জলি সহ যে কোন সরকারি আবাসন প্রকল্পে পাকা ছাদ সহ বাড়ির সংস্থান করতে হবে।

৭. ঝঞ্ঝা বিধ্বস্ত সুন্দরবনের ‘আয়লা বাধ’ সম্পূর্ণ করা সহ নদী বাঁধ রক্ষার কাজ দ্রুততার সাথে করতে হবে।

৮. ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীর বিদ্যুৎ বিল আপাতত ছয় মাসের জন্য মুকুব করতে হবে।

৯. ইনকাম ট্যাক্স এর আওতার বাইরে থাকা পরিবারগুলিকে আর্থিক সুরক্ষার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ছয় মাস মাসিক সাড়ে সাত হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার জন্য রাজ্যের পক্ষ থেকে সার্বিক দাবি উত্থাপন করতে হবে।

১০. সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে ভিন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকগণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং খরচে রাজ্যে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এদের সবার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ব্যবস্থাপনার ত্রুটি দ্রুত কাটাবার ব্যবস্থা করতে হবে।

১১. লকডাউনের পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে বহুবিধ বিষয়েই অসতর্কতা ক্রমশই বাড়ছে। এটা যাতে বিপজ্জনক অবস্থা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরী।

১২. পরিস্থিতির গুরুত্ব আপনি নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পারছেন। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য রাজ্যে দ্রুত সর্বদলীয় সভা আহ্বান করার দাবি জানাচ্ছি।

এছাড়াও, ত্রাণ ও পুনর্গঠনের কাজে নিরপেক্ষতা ও যথার্থতা বজায় রাখতে ব্লকস্তর পর্যন্ত সর্বদলীয় সভা আহ্বান করা জরুরি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি করতে অনুরোধ করছি।

মাননীয়া, আশা করি আপনি যথাযথ গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন এবং দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ধন্যবাদ সহ, সুজন চক্রবর্ত্তী

২/৬/২০২০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here