Parul

মহানগর ডেস্ক: চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে এক বিশৃংখলার দৃশ্য ফুটে উঠেছিল। বহু বিজেপি নেতা কর্মীরা ঘরছাড়া হয়েছিল। এমনকি বেশ কয়েকজনের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। যার ফলে কেন্দ্র থেকে এসেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি দল। তারা খতিয়ে দেখেছে প্রত্যেকটি বিষয়ে। সম্প্রতি তারা রিপোর্ট পেশ করেছে। আর তাদের রিপোর্ট নিয়েও হয়েছে বিতর্ক। কারণ রাজ্য সরকার জানিয়েছে রাজ্যে কোন ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটেনি। আর এতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

ads

এবার রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা সহ আরও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করলেন বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন, যে এই রাজ্যের আইনের শাসন নেই। তা গত ১০ বছর ধরে বিভিন্ন ঘটনার দ্বারা স্পষ্ট। তিনি আরো জানিয়েছেন যে, রক্ষককেই যখন ভক্ষক এর দায়িত্ব দেওয়া হয়। যারা অপরাধী তাদের মাথায় হাত রেখেছে শাসকদল, প্রশাসন।

তিনি দাবি করেছেন, অপরাধীরা নির্বিকারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যার ফলে বিপর্যস্ত হচ্ছে মানুষ, আইন। তাদের কথা শোনার মতো কেউ থাকছেনা। পুলিশ অভিযোগ নিচ্ছে না। মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে পরিষ্কার রয়েছে যে শাসকদলের কথা মতই চলছে প্রশাসনসহ সমস্ত কিছু। এর স্বপক্ষে সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ডিজিপি এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, এটেম টু রেপ বা সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট এর মত যত ঘটনা রয়েছে তার মাত্র ৪ শতাংশ ভেতরে আছে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে দেবার মতো ঘটনায় ১০০ শতাংশের এর মধ্যে ১.৮ শতাংশ রয়েছে ভেতরে। বাকি পুরোটাই ঘুরে বেড়াচ্ছে সমাজে।

তিনি দাবি করেছেন, কোর্টের মনিটরিংয়ে তদন্ত হওয়া খুব জরুরি। এমনকি সিআইডি-বা সিবিআই কেউ এ বিষয়ে যথাযথ ভূমিকা নিতে পারবে কিনা তাও নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। দুর্ভাগ্যজনক সিবিআইও কেন্দ্রীয় সরকারের কথায় ওঠাবসা করছে। মানুষের জীবন বিপন্ন। সীমান্তে ভারতীয় সেনারা লড়াই করছে জঙ্গিদের সঙ্গে। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ জঙ্গিদের একটি সেফ হেভেন হয়ে উঠেছে। যা অত্যন্ত দুশ্চিন্তার। খাগড়াগড় কান্ড প্রকাশ্যে আসার পরই জানা গিয়েছিল যে, সেই বাড়িতেই ছিল তৃণমূলের এর অফিস। এখন প্রশ্ন রাজ্য সরকার কি তার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারবে?

উপ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সময় মত নির্বাচন হোক। এটাই আমরা সব সময় চেয়ে এসেছি। যতদিন পশ্চিমবাংলায় সিপিআইএম ছিল, প্রতিটি নির্বাচন পঞ্চায়েত পৌরসভার নির্দিষ্ট সময় হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, রাজ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে ট্রেন চলছে না স্কুল-কলেজ বন্ধ সেখানে কিভাবে নির্বাচন করা যেতে পারে। পৌরসভা নির্বাচন গত তিন বছর অর্থাৎ ২০১৮ সাল থেকে বকেয়া রয়েছে। পৌরসভা নির্বাচন ছোট এলাকার নির্বাচন কিন্তু সেটাও আজও হয়ে উঠতে পারেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here