national news

মহানগর ওয়েবডেস্কঃ মায়ের উন্মুক্ত বক্ষে ছবি আঁকছে ছোট্ট দুই সন্তান। জুন মাসে এমনই ভিডিও প্রকাশ করে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন কেরলের নারী অধিকার কর্মী তথা সমাজকর্মী রেহানা ফাতিমা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়। এমনকি পকসো আইনে রুজু হয় মামলাও। তাতেই অগ্রিম জামিনের আবেদন করেছিলেন রেহানা ফাতিমা। তবে তাঁর আবেদন এবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্টও।

ভিডিওটিকে অশ্লীলতা ছড়ানোর হাতিয়ার বলে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সওয়াল করে, ‘ আপনি কেন এইসব করছেন? আপনি সমাজকর্মী হতেই পারেন, কিন্তু কী ধরণের অর্থহীন কাজ? আপনি অশ্লীলতার প্রচার করছেন। এটা সমাজের পক্ষে রুচিহীনতার পরিচয়। এটা দেখার পর বাচ্চাদের ওপর কী প্রভাব পড়বে?

এই প্রশ্নের পাল্টা সওয়াল দেন রেহানার আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। তিনি বলেন, এই ঘটনাটিকে এমনভাবে দেখানো হচ্ছে, যেন শিশুদের পর্নোগ্রাফি তৈরী করা হয়েছে। কোনও পুরুষ যদি তার উর্ধাঙ্গ অনাবৃত আর সেখানে যদি বাচ্চারা ছবি আঁকত তাহলে কোনও বাধা আসত না। কিন্তু যেহেতু এটা একজন মহিলা করেছেন তাই এসব নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন জানিয়ে ফতিমা বলেন, কেরলে অসংখ্য দেবদেবীর মূর্তি রয়েছে যাদের ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত। তাদের মন্দিরে রেখে পুজো করা হয়। এটি একটি স্বর্গীয় সৌন্দর্য কোনও যৌন উদ্রেককারী বিষয় নয়। তিনি আরো বলেন, তাহলে মহিলার নগ্নতা বোঝা গেলে তা অশ্লীলতা কি করে হয়?
বাচ্চারা যদি মায়ের শরীরের ছবি আঁকে সেটা কিভাবে যৌনতার বার্তাবহ হতে পারে?

পাশাপাশি পকসো ধারায় তার উপর দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রেহানা ফাতিমা। তিনি বলেন, শিশুরা মায়ের শরীরের ছবি আকলে তা কোনোভাবেই শিশুদের ওপর যৌন অত্যাচার না। নগ্নতার অর্থ সবসময় যৌনতা বা অশ্লীলতা নয় বলেই দাবি ওই সমাজকর্মীর।

রেহানা ফাতিমার ওই বিতর্কিত ভিডিও দেখা গিয়েছিল তার উর্ধ্বাঙ্গে কোন আবরণ নেই। সেই অবস্থায় বিছানায় শুয়ে রয়েছেন তিনি। তাঁর উন্মুক্ত বক্ষে ফিনিক্স পাখির ছবি আঁকছে তাঁর দুই সন্তান।

এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ নম্বর ধারায় ইলেকট্রনিক মাধ্যমে যৌনতা সম্পর্কিত বিষয়বস্তু পোস্ট করা ও ও পকসো আইনের ৭৫ নম্বর ধারা অর্থাৎ সন্তানের প্রতি নিষ্ঠুরতার অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here