Home Featured এই অবস্থায় শুনানি সম্ভব নয়, শাহিনবাগ মামলার দিন পিছোল শীর্ষ আদালত

এই অবস্থায় শুনানি সম্ভব নয়, শাহিনবাগ মামলার দিন পিছোল শীর্ষ আদালত

0
এই অবস্থায় শুনানি সম্ভব নয়, শাহিনবাগ মামলার দিন পিছোল শীর্ষ আদালত
Parul

মহানগর ওয়েবডেস্ক: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে গত দুই দিন ধরে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজধানী দিল্লিতে। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই বুধবার ৭০ দিন ধরে চলতে থাকা শাহিনবাগ মামলার শুনানি ছিল শীর্ষ আদালতে। সেই মামলাতেই এদিন শীর্ষ আদালতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, দিল্লিতে বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে তার মধ্যে এই মামলার শুনানি বা রায় দেওয়া কখনই সম্ভব নয়। শাহিনবাগ মামলার স্পষ্টভাবে এই কথা জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি, এটাও বুঝিয়ে দেওয়া হল, কোনও ভাবেই এই মামলার সঙ্গে দিল্লির হিংসাকে জড়াতে রাজি নয় শীর্ষ আদালত। শাহিনবাগ মামলার পরবর্তি শুনানি হবে আগামী ২৩ মার্চ।

সুপ্রিম কোর্ট এদিন জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব রাজনৈতিক দলকেই পদক্ষেপ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত প্রতিনিধিদের রিপোর্ট গত সোমবারই মুখবন্ধ খামে সর্বোচ্চ আদালতে পড়েছিল। সেই রিপোর্ট প্রসঙ্গে বিচারপতি যোসেফ ও কৌল জানান, ‘রিপোর্টে বহু যদি, কিন্তু রয়েছে।’ পাশাপাশি দিল্লির সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশকে ভীষণরকম ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, পারলেই এই সংঘর্ষ আটকাতে পারত দিল্লি পুলিশ, কিন্তু তারা হামলাকারীদের পালাতে সাহায্য করেছে! সংঘর্ষ বাঁধার আগে তারা অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কোনওরকম পদক্ষেপ নেয়নি, সেই কারণেই দিল্লিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিন শাহিনবাগ নিয়ে মামলার ভিত্তিতে যে শুনানি চলছিল সেই শুনানিতেই দিল্লি সংঘর্ষ নিয়ে এমন মন্তব্য করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের তরফে। শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, হামলাকারীদের সংঘর্ষ ছড়াতে রীতিমতো ‘সাহায্য’ করেছে পুলিশ।

দিল্লির সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের সমালোচনা করে এদিন সুপ্রিম বিচারপতি কেএম জোসেফ মন্তব্য করেন, কোনও এলাকার পরিস্থিতি যখন খারাপ হয় তখন আমেরিকা বা ব্রিটেনের পুলিশ আইনশৃঙ্খলাকে বাগে আনতে পেশাদারভাবে কাজ করে। কিন্তু দিল্লি পুলিশের পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে! তবে এই মন্তব্যের কার্যত বিরোধিতা করে সলিসিটার জেনারেল বলেছেন, এমন মন্তব্য শুনলে দিল্লি পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়বে। তিনি আরও বলেন, এরপর যদি পুলিশ নিজের মতো অ্যাকশন নেয় তবে পরবর্তী সময়ে আদালতই তাতে হস্তক্ষেপ করবে! উল্লেখ্য, দিল্লির হিংসার ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কোনও পদক্ষেপ নিতে চাইনি কারণ ইতিমধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টে সেই মামলা চলছে।

প্রসঙ্গত, গোটা পরিস্থিতির জেরে জেপি সরকারকে ইতিমধ্যেই তুলোধনা করেছে শিবসেনা। শিবসেনা তাদের মুখপত্র সামনায় উল্লেখ করেছে ১৯৮৪ সালের শিখ সংঘর্ষের কথা। তাদের বক্তব্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে থাকাকালীনই দিল্লিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে গেল। মোদী-ট্রাম্প একে অপরের সঙ্গে যখন আলাপচারিতায় ব্যস্ত তখন দিল্লি জ্বলছে। যে কারণেই সংঘর্ষ লাগুক না কেন এটা স্পষ্ট যে, কেন্দ্রীয় সরকার আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here