ডেস্ক: কর্ণাটক রাজ্যে সরকারগঠন নিয়ে নাটক চলছেই। ভোটের ফল প্রকাশ হওয়ার পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও সরকার গঠনের জন্য ইয়েদুরাপ্পা কে রাজভবনে ডেকেছিলেন কর্নাটকের রাজ্যপাল বজুভাই ভালা। একইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ১৫ দিনের মধ্যে আস্থা ভোট হবে কর্ণাটক বিধানসভায়। এবং সেখানে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমান দেবে বিজেপি। রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বুধবার গভীর রাতে সুপ্রিম দ্বারস্থ হয় কংগ্রেস ও জেডিএস। সেই মামলার শুনানিতে, কংগ্রেস ও জেডিএসের আপত্তি সত্ত্বেও ইয়েদুরাপ্পা মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার অনুমতি দেয় আদাতল। তবে শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল ১৫ দিন নয়, নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমান বিজেপিকে দিতে হবে আগামিকাল অর্থাৎ শনিবার বিকেল ৪ টেয়।

আদালতের কোনও বাধা না থাকায় বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের উপস্থিতিতে রাজভবনে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণ করেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বি এস ইয়েদুরাপ্পা। একইসঙ্গে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠটা প্রমানের জন্য সুযোগ দেওয়া হয় ১৫ দিনের। তবে শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি কেকে বেনুগোপাল জানিয়ে দেন, ১৫ দিন নয়। আগামীকাল অর্থাৎ শনিবারই বিধানসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমান দিতে হবে ইয়েদুরাপ্পাকে। একইসঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়, বিধানসভার প্রমোট স্পিকার সিদ্ধান্ত নেবেন কোন প্রেক্ষিতে ও কীভাবে আস্থা ভোটের আয়োজন করা হবে। সঙ্গে এটাও জানিয়ে দেওয়া হয়, গোপন ব্যালটে হবে না এই আস্থা ভোট। তবে এই আস্থা ভোটের জন্য বিজেপির আইনজীবী মুকুল রোহতগি আদালতের কাছে কিছুটা সময় চাইলেও তা দিতে রাজি হননি বিচারপতি। এদিকে আস্থা ভোটের সময় বিধায়কদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস ও জেডি (এস)।

উল্লেখ্য, কর্ণাটকে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১২ জন বিধায়কের কিন্তু বিজেপির হাতে ছিল ১০৪ জন। অন্যদিকে জোট গড়া দুই দল কংগ্রেস ও জেডি (এস), যাদের শক্তি যথাক্রমে ৭৮, ৩৭। তবে ১০৪ টি আসনে জেতার ফলে বিজেপি একক বৃহত্তম দল হওয়ার পর তিনিই দলের পরিষদীয় নেতা নির্বাচিত হন। গতকাল গভীর রাতে শুনানির পর সর্বোচ্চ আদালতের তিন বিচারপতি এ কে সিকরি, এস এ বোবদে ও অশোক ভূষণের ডিভিশন বেঞ্চ কংগ্রেস, জেডি (এস)-এর আপত্তি সত্ত্বেও ইয়েদুরাপ্পা মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার অনুমতি দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here