ডেস্ক: সমকামিতা কি অপরাধ? নাকি স্বাভাবিক? সুপ্রিম কোর্টে এই নিয়েই শুরু হয়েছে ৩৭৭ ধারার উপর শুনানি। কেন্দ্রীয় সরকার এই মামলার শুনানির ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশের আবেদন জানালেও তা নস্যাৎ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। কমপক্ষে আরও চার সপ্তাহের সময় চেয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চ অবিলম্বে এই শুনানি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধান বিচারপতি ছাড়াও আর এফ নরিমন, এ এম খানউইলকর, ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং ইন্দু মালহত্রা সামিল রয়েছেন এই বেঞ্চে।

এদিন শুনানির শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের উকিলের সঙ্গে ডিভিশন বেঞ্চের বাক বিতণ্ডা শুরু হয়। ৩৭৭ ধারার পক্ষে সওয়াল করে কেন্দ্রের উকিল তুষার মেহেতা বলেন, এই ধারার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সীমাবদ্ধতা থাকার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, ৩৭৭ ধারার বিরুদ্ধে সওয়াল তুলে এদিন শুরু থেকে কেন্দ্রের প্রতি আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন আইনজীবী মুকুল রোহতগি। তিনি বলেন, ৩৭৭ ধারার কারণে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের অঘোষিত অপরাধী বলে মনে করা শুরু করেছেন। সমাজও তাদের অন্য নজরে দেখছে। সাংবিধানিকভাবে এটা কাম্য নয়।

রোহতগি আরও বলেন, এই মামলাটি সম্পূর্ণ মানুষের যৌন প্রবৃত্তি এবং তাদের পছন্দের উপর নির্ভরশীল। এর সঙ্গে লিঙ্গ বৈষম্যের কোনও যোগাযোগ নেই। এটা প্রাকৃতিক। পাশ্চাত্য দেশের কথা টেনেও তিনি জানান, বংশানুক্রমে পরিবর্তনের জন্য সেখানেও আইন পুনর্বিবেচনা করে তা শোধরানোর দরকার পড়েছে। এরপর দুই আইনজীবী ও বিচারপতিদের মধ্যে আরও কিছুক্ষণ বিষয়টি তর্ক চলে। আপাতত এই মামলায় শুনানি চলবে বলেই জানা গিয়েছে। তবে রায় আসতে যে আরও সময় লাগবে তা বিলক্ষণ বোঝা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুর দিকেই সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ গোপনীয়তাকে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে ৩৭৭ ধারা বজায় রাখা নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। কে কীভাবে, কার সঙ্গে, কোথায়, কখন যৌন প্রবৃত্তিতে লিপ্ত হবেন সেটা ওই মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পরে যায়; এবং তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অঙ্গ বলেই বিবেচিত হয়। এখন ৩৭৭ ধারা বজায় থাকলে গোপনীয়তা, যা দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃতি পেয়েছে, সেটি পালিত হয় না। মূলত এই দুই আইনের লড়াইয়ে কোন আইন যেতে সেটাই এই শুনানির প্রতিপাদ্য বিষয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here