মহানগর ডেস্ক:    সুনামির থেকেও বোধহয় দ্রুত গতিতে করোনার ঢেউ আছড়ে পড়ছে ভারতের কোনায় কোনায়। পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরও খারাপ হচ্ছে। এই খারাপ পরিস্থিতির শেষ কোথায় কারও জানা নেই। এই পরিস্থিতিতে একে তো সংক্রমণের আশঙ্কা, তার মধ্যে হাসপাতালে বেড নেই, অক্সিজেনের আকাল। দিল্লিতে সব থেকে বেশি অক্সিজেনের আকাল দেখা দিয়েছে। দিল্লিতে অক্সিজেনের অভাবে একের পর এক মৃত্যুর খবর আসতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামল দিতে আসরে নামল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে, ৩ মে মাঝরাতের মধ্যে দিল্লির সমস্ত হাসপাতালে অক্সিজেন পরিষেবা স্বাভাবিক করতে হবে।

অক্সিজেন নিয়ে দিল্লির সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের বেশ কিছুদিন ধরে চাপান উতোর চলছে। দিল্লিতে অক্সিজেনের চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে, রাজ্য সরকার বেশি অক্সিজেন দাবি করেছে। যা মোটেই দিতে চাইছে না কেন্দ্র। পরিস্থিতি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। শনিবার সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র বলে, দিল্লির জন্য প্রতিদিন ৫৯০ মেট্রিক টন অক্সিজেন বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু দিল্লি ৯৭৬ মেট্রিক টন অক্সিজেন প্রতিদিন দাবি করছে।

এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রের রাজ্যগুলির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে অক্সিজেনের ঘাটতি কমানো প্রয়োজন। এখন একে অপরকে দোষারোপের সময় নয়। এই মুহূর্তে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক করা প্রধান কর্তব্য হওয়া প্রয়োজন। জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেনের মজুদ করতে হবে। আগামী চার দিনের মধ্যে অক্সিজেন মজুদ করতে হবে। প্রতিদিন দেখতে হবে জরুরি ভিত্তিতে মজুদ করা অক্সিজেন সঠিক আছে কি না।

প্রসঙ্গত, দিল্লির বার্তা হাসপাতালে শনিবার ১২ জন করোনা রোগীর পাশাপাশি একজন প্রবীণ চিকিৎসকের অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয়েছে। ঠিক তার আগের দিনই জয়পুর গোল্ডেন হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ২৫ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক করা ও মানুষের প্রাণ বাঁচানোর দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here