ডেস্ক: পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে অন্য ধর্মআলম্বীর মানুষকে পুজো দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় সম্ভব কিনা তা মন্দির কমিটিকে পুনরায় বিবেচনা করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য যেসব মন্দিরে এই ধরনের জাতপাতের সমস্যা আছে সেখানেও একই রকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানাল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিরা এদিন প্রাক্তন বিচারপতি পি বি গজেন্দ্রগডকড়ি বই থেকে একটি উদ্ধৃতি নিয়ে বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা অর্থ হল কোনও ধর্মই ধর্মীয় জ্ঞানের একছত্র মালিক নয়।’

সুপ্রিম কোর্টের মৃণালিনী পাধি মামলা করেছিলেন, বিদেশ থেকে অনেক দর্শনার্থী ও অন্য ধর্মের ভমানুষ আসেন জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য। কিন্তু তাদের মূল মন্দিরে প্রবেশ করতে বাঁধা দেওয়া হয়। এমনকি পুরীর জেলা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মন্দিরে থালা ও কলস রেখে দেওয়া হয় অর্থ সংরহের জন্য। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারপতি এ কে গয়াল ও বিচারপতি আব্দুল নাজিরের বেঞ্চ আজ নির্দেশ দিয়েছেন, প্রয়োজন মতো গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে পোশাক বিধি ঠিক করে দিয়ে সমস্ত দর্শনার্থীদের মন্দিরে পুজো দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় কিনা তা বিবেচনা করে দেখুক মন্দির কর্তৃপক্ষ।

সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ উঠেছিল, অনেক মন্দিরেই দর্শনার্থীরা পরিষেবা সংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখে পড়েন। দর্শনার্থীদের কাছ থেকে টাকা চাওয়াও হয়। আদালতের এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা করার জন্য আইনজীবী সুব্রহ্মণ্যম স্বামীকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। তিনি অন্যান্য মন্দিরের প্রসঙ্গ তুলে বলেন অসমের কামাখ্যা মন্দির, কলকাতার কালীঘাট মন্দিরে, আজমেঢ়ের খ্বাজা মাইনুদ্দিন চিস্তির দরগায় অন্য ধর্মের মানুষরা জড়ো হন। সেখানে তাদের কোনও রকম সমস্যার মুখে পড়তে হয় না। একমাত্র ব্যাতিক্রম এই পুরীর জগন্নাথ মন্দির। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের কোথায় কোথায় দর্শনার্থীদের সমস্যার মুখে পড়তে হয় সেই বিষয়ে কেন্দ্রকে ৩১ আগস্টের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here