ডেস্ক: সম্প্রতি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি দেশের মধ্যে অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ তৈরি করেছে৷ কখনও ‘লাভ জিহাদ’, তো কখনও আবার ‘গো-রক্ষা’র নামে হিংসা ছড়াচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে৷ গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে৷ যা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশের সসর্বোচ্চ আদালত৷ তাই গো রক্ষার নামে গুন্ডামি আর বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট৷ শুধু তাই নয়, গো-রক্ষার সঙ্গে যাতে কোনও ধর্মীয় ভাবাবেগ না থাকে, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে দেশের শীর্ষ আদালত।

গো-রক্ষার নামে কোথাও হিংসার ঘটনা ঘটলে তার জন্য দায়ী থাকবে রাজ্য প্রশাসন৷ তাই এমন এমন কোনও ঘটনা ঘটলে সেদিকে রাজ্য সরকারগুলিকেই কড়া নজর রাখতে বলে নির্দেশ দিলেনব দেশের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র। জাতি ও ধর্মের ভিত্তিতে কোনও রকম হিংসাও ছড়ানো যাবে না বলে সতর্ক করেছেন প্রধান বিচারপতি।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে গো-রক্ষা নিয়ে হিংসা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলাকালীন দীপক মিশ্র বলেন, ‘যাই ঘটুক, কোনও মানুষই নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারে না। রাজ্যগুলির উচিত এমন ঘটনা বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া৷ হিংসার ঘটনাকে কোনওভাবে বরদাস্ত করা চলবে না৷’

উল্লেখ্য, এর আগেও গো-রক্ষার নামে সাম্প্রদায়িক হিংসা রুখতে ২০১৭ সালে দেশের ২৯টি রাজ্য ও সাতটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। গো-রক্ষার নামে গুন্ডা বাহিনীর বেআইনি কার্যকলাপ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে আধিকারিক নিয়োগের কথাও জানিয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য ছিল, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায় সাংবিধানিক ভাবেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যেরগুলির উপরই বর্তায়। সুতরাং, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে রাজ্য প্রশানকেই৷ এই প্রসঙ্গে এদিন দীপক মিশ্র জানান, ‘শুধুমাত্র অভিযোগ নথিবদ্ধ করেই রাজ্য প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না৷ এই ধরনের ঘটনা রুখতে রাজ্যকেই তৎপর হয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here