Home Latest News ‘সোশ্যাল ট্যাবু’, ‘সিঙ্গল’ মাতৃত্ব এবং ৪৩-তম জন্মদিনে ‘মিস ইউনিভার্স’!

‘সোশ্যাল ট্যাবু’, ‘সিঙ্গল’ মাতৃত্ব এবং ৪৩-তম জন্মদিনে ‘মিস ইউনিভার্স’!

0
‘সোশ্যাল ট্যাবু’, ‘সিঙ্গল’ মাতৃত্ব এবং ৪৩-তম জন্মদিনে ‘মিস ইউনিভার্স’!
Parul

ডেস্ক: তখন ২০০০ সাল। ২৫ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণী সিদ্ধান্ত নেন তিনি ‘মা’ হবেন। সেই সিদ্ধান্তে অসুবিধার কিছুই ছিলনা, বরং ২৫ বছর বয়সটা ভারতীয় মহিলাদের বিয়ের ক্ষেত্রে ‘বড্ড দেরী হয়ে গেছে’ ধরনের। ভারতীয় চিন্তা-সংস্কৃতি আজও সংখ্যাভিত্তিক হয়ে আছে কিনা, সে উত্তর সময়ই দিচ্ছে-দেবেও। কথা হচ্ছিল ২৫ বছর বয়সী সেই তরুণীটিকে নিয়ে। ‘বয়স’ তাঁর মাতৃত্বে বাধা তৈরী না করলেও, বাধ সাধল তাঁর ‘সিঙ্গল’ পরিচিতি। সমাজ কিছুতেই মেনে নেবে না তাঁর এভাবে ‘মা’ হওয়াকে। তিনি ‘বিশেষ’ ছিলেন বলেই বিস্তর আইনি জটিলতা, প্রশ্নত্তর পর্ব শেষে সমাজের কাছ থেকে ‘মা’ স্বীকৃতি আদায় করে ছেড়েছিলেন। ইতিহাস তৈরী করে বুঝিয়েছিলেন ‘এভাবেও মা হওয়া যায়’। একবার নয় দু’-দু’বার। ২০০০-এর পর সমাজও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল তাঁর মাতৃত্বে। ২০১০-এ ফের একইভাবে মা হন তিনি। ‘রেনি’ আর ‘আলিশা’কে মনে-প্রানে জাপটে ধরে তিনি এখন দুই কন্যাসন্তানের ৪৩ বছর বয়সী অবিবাহিত মা- সুস্মিতা সেন।

২৫ বছরে মা হওয়া তো ছিলই, ৪৩ বছর বয়সে এখনও কেন তিনি বিয়ে করছেন না, কেন তিনি ‘বয়ফ্রেন্ড’ নিয়ে স্বাচ্ছন্দে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন, সে নিয়েও কম জলঘোলা হয়না ভারতীয় মনস্তত্ত্বে। দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত তিনি, তাই প্রকাশ্যে ‘বাহবা’ তো মেলেই, কিন্তু যা অপ্রকাশিত থেকে যায়, তা হল কয়েকটি অপরিণত প্রশ্ন। সমাজের ‘সাধারণ’ মেয়েদের এহেন জীবনযাপনের মামলা কিন্তু ‘সোশ্যাল’ কোর্টে ওঠার আগেই খারিজ হয়ে যায়। যাঁরা লড়াই জানে, তাঁরা আদায় করে নেন, যাঁরা পারেন না, তাঁরা সমাজ ধর্মাবতার-এর রায় মাথা পেতে নিয়েই জীবন কাটিয়ে ফেলেন। সুস্মিতার ‘প্রতিষ্ঠিত’ ইমেজ, তাঁকে যতই সুযোগ করে দিক না কেন, অনেক কুঞ্চিত ভ্রু’ই কিন্তু বাহবার পিছনে মুখ ফসকে বলে ফেলেন, ‘মিস ইউনিভার্স’/অভিনেত্রী/অত বড় মাপের সেলিব্রিটি, তার আবার এসব নিয়ে মাথা ব্যথা কিসের? যা ইচ্ছে করতে পারেন তিনি। এই প্রশ্নের মধ্যেই কতটা হীনমণ্যতা রয়েছে, তা যদি বুঝতেন প্রশ্নকর্তারা তাহলে হয়ত এই প্রশ্নটারই প্রয়োজন পড়ত না! সুস্মিতা সেন এমন একজন সাধারণ ভারতীয় মহিলা, যিনি সদ্য কৈশর পেরিয়ে ১৮ বছর বয়সে, নিজের বুদ্ধি-বিবেচনা-আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে, ২৪ বছর আগে এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রমান করেছিলেন তাঁর যোগ্যতা: মাতৃত্বের-মনুষ্যত্বের-বিশ্বজয়ের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here