বিশেষ প্রতিবেদক, তমলুক: নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ময়দানে নেমে জোর কদমে প্রচার শুরু করে দিয়েছে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই৷ প্রত্যাশা মতোই শাসকের একচ্ছত্র ডেরা পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক শহরে বিরোধী দলের একটি দেওয়ালও চোখে পড়ল না৷ তবে সিংহভাগ এলাকায় দেওয়াল দখল করে দুই হাইভোল্টেজ প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জেতাতে দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল৷ তমলুক পুরসভার ২০টি ওয়ার্ডেই চলছে তৃণমূলের দেওয়াল লিখন। প্রার্থী ঘোষণার দিন থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারীর সমর্থনে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শুরু হয়ে গিয়েছে দেওয়াল লিখনের কাজ৷

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি ও তমলুক এই দুটি লোকসভা আসনই ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। এবারেও ঐ দুটি আসনেই মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী পরিবারের ওপরেই আস্থা রেখেছেন৷ তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে পূর্ব মেদিনীপুরের দুটি লোকসভা কেন্দ্রে টিকিট দিয়েছেন দিব্যেন্দু অধিকারী ও শিশির অধিকারীকে৷ ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম কাণ্ডের পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান। ২০০৮ সালে জেলা পরিষদ দখল করে পরবর্তী ক্ষেত্রে ২০০৯ সালে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী লক্ষণ শেঠকে হারিয়ে তমলুক লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে পুনরায় তমলুক লোকসভা কেন্দ্র সাংসদ নির্বাচিত হন শুভেন্দু অধিকারী। ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীকে নন্দীগ্রামে বিধায়ক করে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী করেন।

 

অন্যদিকে, ছাত্র রাজনীতি থেকে উত্থান হওয়া দিব্যেন্দুবাবু প্রথমে কাঁথি কলেজের জিএস, পরে কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলার ও দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তমলুক লোকসভা আসনে উপনির্বাচনে দিব্যেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করলে বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি। অন্যদিকে ১৯৬২ সালে পঞ্চায়েত ভোটে জয়লাভ করার পর শিশিরবাবুর রাজনৈতিক জীবনে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘদিন কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি৷

পাশাপাশি তিনবার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তিনি কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় বহুদিন মন্ত্রীত্বও করেছেন। তাই পোড় খাওয়া এই অভিজ্ঞ নেতার ওপরেই বিশ্বাস রেখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে শহিদ তর্পণের মাধ্যমে প্রচার শুরু করে দিয়েছিলেন এই দুই প্রার্থী৷ শাসকদলের এই শক্ত ঘাঁটিতে এবারেও তৃণমূলের জয়ধ্বজা উড়বে বলেই একশ শতাংশ আশাবাদী হাইভোল্টেজ পরিবারের এই দুই প্রার্থী৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here