news
  • নিসর্গ নির্যাস: শুভেন্দু অধিকারী এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির আলোচ্য কেন্দ্র। সব জল্পনার অবসান বলাই যায়। বিজেপি’তে যোগদান করবেন শুভেন্দু। অনুগামী সূত্রে খবর এমনটাই। শুধু তাই নয়, বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায় দাবি করেছেন একই কথা।

 

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুকুল বলেন, দল থেকে পদত্যাগ করছেন শুভেন্দু। বলার সময় এসেছে, বিজেপিতে যোগদান করবেন তিনি। শুধু সময়ের অপেক্ষা। আগামী ২ দিনেই নিজের অবস্থান জানিয়ে দেবেন বর্তমান রাজ্য রাজনীতি আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এই নেতা।

 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, অধিকারী ইতিমধ্যেই রয়েছেন কলকাতায়। তাহলে কি শুধুই সময়ের অপেক্ষা? অন্যদিকে জানা গিয়েছে, ঘনিষ্ঠদের সামনে ধরা গলায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মৃত্যু কামনা করছে কেউ কেউ। আমার পদ নিতে চায়।’

 

 

দলীয় ব্যানার ছাড়াই তিনি মাসের পর মাস চালিয়েছেন বিভিন্ন কর্মসূচি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ‘দাদার অনুগামী’-র কথায়, দলীয় প্রতীক ছাড়া কাজ করার সময় দল একবারও বলেনি দলীয় চিহ্নে কাজ করার কথা। এরপর প্রায় জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা ছেড়ে দেওয়া, হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশন একবারেই গ্রহণ করা হয়েছে। অনুগামী সূত্রে খবর, তখন থেকেই নিশ্চিত জোড়া ফুল শিবিরের সঙ্গে বিচ্ছেদ। পরেরদিনই মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অধিকারী গড়ের রাজপুত্র। অনুগামীদের দাবি, আসলে দাদা নিজে দল ছাড়ছেন না, ঘুরিয়ে নাক দেখানোর মতোই তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে ।

 

মঙ্গলবার রাত্রে অভিষেক ব্যানার্জি ও প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু। মধ্যস্থতায় ছিলেন সৌগত রায় ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌগত ও সবুজ শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, শুভেন্দু থাকছেন জোড়া ফুলেই। ভুল বোঝাবুঝি মিটে গিয়েছে।

 

ঠিক পরের দিনই হোয়াটসঅ্যাপ করে অধিকারী জানান, এই বৈঠক অনৈতিক। নিজের অবস্থানের কথা তিনি ছয় ডিসেম্বর জানাবেন বলে কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই গণমাধ্যমের সামনে অনেক কিছু বলে দিয়েছে দল। এমনকি, তাঁর মুখে কথা বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। এরপরেই সৌগত রিপ্লাই করেন, তাহলে আলোচনায় আসা কেন? আরও বলেন, এরপরে নিজের অবস্থান নিজেই জানাবেন শুভেন্দু। বৈঠকের সম্ভাবনা নেই। তা এখন বন্ধ অধ্যায়। দলের হাল শক্ত করে ধরে আছেন দিদি।

 

যদিও বৈঠকের পর তৃণমূলের দাবিতে প্রথম থেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৈঠকের পরের দিনই কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, তৃণমূল মিথ্যে কথা রটাচ্ছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অধীর রঞ্জন বলেন, সবুজ শিবিরের স্তম্ভ শুভেন্দু। তা সরে গেলে গড় ধসে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা।

 

শহিদ ক্ষুদিরামের জন্মদিবসে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ‘অরাজনৈতিক’ সভায় সুখেন্দু বলেন, তিনি বাংলার সন্তান। ভারতের সন্তান। অফ দ্যা পিপল বাই দ্যা পিপল ফর দ্যা পিপল। জনগণের জন্য সিঙ্গুর- নন্দীগ্রামে আগেও লড়াই করেছেন, এখনও করবেন। তিনি আরও বলেন, পান্তা-মুড়ি খেয়ে গ্রামের ছেলে রাস্তায় নেমেছে বলে ফ্ল্যাটে থাকা কারও কারও অসুবিধা হচ্ছে‌। আদর্শের জন্যই লড়াই করছেন। কমফোর্ট জোনে তিনি রাজনীতি করেন না, স্পষ্ট এই দাবি করেন।

 

এদিকে, শুভেন্দুকে সরানো হয়েছে তৃণমূল কর্মচারী সমিতির পদ থেকে। বদল হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের এসপি’র।

 

আবার, ‘অরাজনৈতিক’ সভায় একই মঞ্চে দেখা গিয়েছে, লক্ষ্মণ শেঠ ও কুণাল ঘোষকে। প্রসঙ্গত, আগেই তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন লক্ষণ। বাধা দিয়েছিলেন শুভেন্দু। তবে কি পূর্ব মেদিনীপুরে জোড়া ফুলের অন্যতম মুখ হতে চলেছেন লক্ষণ? এদিকে, ‘টাইম ফর প্যাকআপ’ বলার পরেই পরিবহণ দফতর ফিরে পেয়েছেন মদন মিত্র। বিক্ষুব্ধ বিধায়ক শীলভদ্র জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় গেরুয়া টেমপ্লেটে পোস্ট করেছেন ‘বন্ধু দেখা হবে…’ কীসের ইঙ্গিত? অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শুভেন্দু অনুগামী অমূল্য মাইতির নিরাপত্তা ‘কাড়িয়ে’ নেওয়া হয়েছে।

 

আগামী ৬ ডিসেম্বর সাংবাদিক বৈঠক করবেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার ঠিক আগের দিন। সেখানেই তিনি নিজের অবস্থান জানাবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অনুগামী সূত্রের খবর, নতুন দল গঠন হচ্ছে না। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, গেরুয়া শিবিরেই যোগ দেবেন শুভেন্দু।

 

ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি সাজিয়েছেন শুভেন্দুকে বাদ দিয়েই। জোর দিয়েছেন জনসংযোগে। অন্যদিকে জেলার মূল দায়িত্বে এখনও বিক্ষুব্ধ নেতার পিতা শিশির অধিকারীকেই ‘বিশ্বাস’ করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে দলে গুঞ্জন, এখানেও ‘মুকুল- শুভ্রাংশু’ ঘটনার মতো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে ‘শুভেন্দু-শিশির-দিব্যেন্দু’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here