নিজস্ব প্রতিবেদক, পূর্ব মেদিনীপুর: জ্যোতি বসু, রাজীব গান্ধীর মতো নেতারা আধিকারী গড় টলাতে পারেননি। বাকিরা পারবে কী করে? এই প্রশ্ন তুলেই নিজেদের ঘুঁটি শক্ত বলে কার্যত দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, জ্যোতি বসুর মতো ন্যাশনাল লিডারের মতো সভায় মুগবেড়িয়া, খেজুরি থেকে লোক নিয়ে এসে কাঁথির খাসমহল ময়দান ভরিয়েছিল। তাঁর মতো জাতীয় নেতা জনসভা করেও কাঁথির মানুষকে ও কাঁথি পুরসভাকে টলাতে পারেননি। বলেন, বড় মাপের নেতারা শিশির অধিকারীর আসন টলাতে পারেননি, বাকিরা কোন ছার!

রবিবার অধিকারী গড়ের দাপুটে নেতা বলেন, ১৯৯৫ সালে সিপিএমের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কাঁথি পুরসভার ভোট প্রচারের জন্য নিয়ে এসেছিলেন জ্যোতি বসুকে। কিন্তু কাঁথির মানুষ তাতে সাড়া দেয়নি। দাবি করেন, ১৯৮৭ সালে ধনদিঘির ফাঁকা মাঠে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে আনা হয়েছিল শিশির অধিকারীর গদিকে টলানোর জন্য। ভোট প্রচারের জন্য অধিকারী বাড়ি পর্যন্ত মাইক বাঁধা হয়েছিল। তাঁর মতো বড়ো নেতাও জেতাতে পারেনি তাঁর মনোনীত প্রার্থীকে। গদি টলাতে পারেননি শিশির অধিকারীর। এরপরেই বলেন, ‘বড় বড় নেতারা পারেননি আর এরা তো কোন ছার! আমার জ্ঞানত জানা নেই, এদের থেকে বড় নেতা এই বাজারে আছে কী না।’

রবিবার নিজের গড়ে কাঁথি পুরসভার কর্মী সম্মেলন করেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরনির্বাচনে বিরোধীদের শূন্য করে ২১ টি আসনেই জোড়াফুল শিবির জিতবে বলে দাবি করেন।

তবে নাম না করে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী বলেন, রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলই প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যক্তি নয়। বলেন, ‘আমার মনে হয় যিনি এই ভাবনা প্রকাশ করছেন, তাঁর দলের প্রতি কোনও নিষ্ঠা নেই।’ অধিকারী গড়ে আঙুল তুলে বিজেপি নেতার প্রশ্ন, কাঁথি কার দখলে ছিল? কোনও একটি রাজনৈতিক দলের না ব্যক্তির?’ বলেন, কোনও এক ব্যক্তি গণতন্ত্রকে হত্যা করে নিজের নামে রাজনীতি করে কেবলমাত্র নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কুখ্যাত হয়েও বিখ্যাত দাবি করছেন সেই ব্যক্তি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here