kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বর্ধমান: সোমবার বর্ধমানের লোক সংস্কৃতি মঞ্চের সভার পর শহর লাগোয়া যে আলিশা গ্রামের দাসপাড়ায় গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই এলাকার নাম মমতানগরী বা মমতা কলোনী করার প্রস্তাব দিলেন রাজ্যের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মত দাসপাড়ার বাসিন্দাদের হাতে ছাগল, হাঁস ও মুরগী প্রদান করতে স্বপনবাবু এলাকায় যান। এলাকার মানুষের সামনেই তিনি এদিন এই নামকরণের প্রস্তাব রাখেন। এ ব্যাপারে বিডিওকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন করেন স্বপনবাবু। উল্লেখ্য, এই আলিশা গ্রামের মধ্যে রয়েছে ৫টি পাড়া। এগুলি হল – ঘোষপাড়া, কুমোরপাড়া, দাসপাড়া, জামতলা এবং পুলপাড়া। এই ৫টি পাড়ায় প্রায় ৫০০ পরিবারের বাস। অধিকাংশই কৃষিজীবী।

সোমবার প্রশাসনিক সভায় বসে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে সাধারণ মানুষ কি কি সুবিধা পাচ্ছেন, আদপেও সেই সরকারি সুবিধা তারা পাচ্ছেন কিনা সে বিষয়ে দফায় দফায় প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন সরকারি আমলাদের। কখনও বাংলা আবাস যোজনা আবার কখনও ১০০ দিনের কাজে জবকার্ড নিয়েও তিনি জানতে চান। প্রায় ২ ঘণ্টার প্রশাসনিক বৈঠকের পর একদিকে জনসংযোগ এবং অন্যদিকে, সরকারী রিপোর্টের বাস্তবতা খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী কাউকে কিছু না জানিয়েই হাজির হয়েছিলেন আলিশা গ্রামের দাসপাড়ায়। সেখানে ঢুকে তিনি শম্ভু রুইদাসের বাড়ির দাওয়াতে বসে চা-ও খান। চা খেতে খেতেই তিনি পাড়ার মহিলাদের কাছ থেকে তাদের অভাব অভিযোগ শোনেন। খোদ মুখ্যমন্ত্রী তাদের বাড়ির দাওয়ায় বসে চা খাচ্ছেন – এই ঘোর কাটতে না কাটতেই গ্রামের মহিলারা অভিযোগ করেন, তারা সরকা্রি কোনও সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না। এমনকি রাস্তাঘাট, ড্রেন, পানীয় জলেরও অভাব রয়েছে। গ্রামের কয়েকজন মহিলা বাংলা আবাস যোজনায় বাড়ি, প্রতিপালনের জন্য ছাগল, হাঁস মুরগীও চেয়ে বসেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তত্ক্ষণাত মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দেন। এরই পাশাপাশি তার সঙ্গী রাজ্যের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথকে ওই পরিবারগুলোর দানি মেনে মঙ্গলবার বিকালের মধ্যেই তাদের হাতে ছাগল, হাঁস মুরগী দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে যান।

মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার বিকালে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ দাসপাড়ার ১২টি পরিবারের মধ্যে ১০টি পরিবারের হাতে তুলে দিলেন একটি করে ছাগল এবং পরিবার পিছু ৫টি করে হাঁস ও মুরগী। দাসপাড়ার বাকি দুটি পরিবারের হাতে হাঁস ও মুরগি দিলেও এদিন ছাগল দেওয়া হয়নি। পরে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এরই পাশাপাশি পাশের কুমোরপাড়া এবং জামতলার মোট ১৩টি পরিবারের হাতেও হাঁস ও মুরগির বাচ্চা তুলে দেন তিনি। স্বপনবাবু এদিন জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এদিন বিকালের মধ্যেই যেন এই পরিবারগুলোর হাতে পৌঁছে যায় ছাগল এবং হাঁস মুরগী। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই এদিন দাস পাড়ার মোট ১২টি পরিবারের হাতেই এই সরকারী সহায়তা তুলে দিলেন। তবে কেবল দাসপাড়ায় নয়, আশপাশের পাড়াগুলিতেও যারা ছাগল ও হাঁস মুরগী পালনে আগ্রহ দেখাবেন তাদের হাতে তা তুলে দেওয়া হবে।

স্বপনবাবু এদিন জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যে ১ কোটি হাঁস ও মুরগীর বাচ্চা দেবার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৬৫ হাজার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই হাঁস ও মুরগীর বাচ্চা দেওয়ার কাজ চলছে। প্রসঙ্গত, স্বপনবাবু এদিন জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যে প্রতিদিন ২ কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের উত্পাদিত ডিম চাহিদার ১ কোটি ৬৫ লক্ষ মেটাতে সক্ষম হয়েছে। তারা আশা করছেন আগামী বছরের মধ্যে ডিমের চাহিদা মেটাতে তা আর বাইরে থেকে আমদানি করতে হবে না। বাংলাই স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাবে। এদিন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ছাড়াও হাজির ছিলেন সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, জেলাশাসক বিজয় ভারতী, অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) প্রবীর চট্টোপাধ্যায়, সদর বর্ধমান উত্তরের মহকুমাশাসক পুষ্পেন সরকার, বর্ধমান ২ ব্লকের বিডিও অদিতি বসু, বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বাগবুল ইসলাম,বৈকুণ্ঠপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শর্মিলা মল্লিক, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা মিতা দাস প্রমুখরাও। এদিন ছাগল, হাঁস, মুরগী দেবার পর স্বপনবাবু শম্ভু রুইদাসের বাড়ির উঠানেই সকলকে ডেকে পাঠান। সেখানেই স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে জনসংযোগের কাজটি সেরে ফেলেন। গতকালই মুখ্যমন্ত্রীকে তারা যে যে সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন এদিন সেগুলি লিপিবদ্ধ করা করা হয়। বাসিন্দারা এলাকার ঢালাই রাস্তা মেরামত, পিএইচই-র পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প, বৃদ্ধ ভাতা প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here