ডেস্ক: বিশ্বের দরবারে ভারতকে সুখ্যাতি এনে দেওয়া তাজমহল মন্দির নয়, এটি আসলে মুঘল সম্রাট শাহজাহান পত্নী মুমতাজের সমাধি ক্ষেত্র। আদালতে হলফনামা জমা দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারতের পুরাতাত্ত্বিক সংস্থা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই)। বহুদিন ধরেই কট্টর হিন্দুত্ববাদী পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল, তাজমহল আদতে শিবমন্দির। বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতাও একই দাবি তুলে সরব হন। কিন্তু এএসআই-এর হলফনামায় স্পষ্ট জানান দেওয়া হয়েছে, এটি মুমতাজ বেগমের স্মৃতিসৌধ কেবল।

তাজমহলকে নিয়ে তরজা তুঙ্গে থাকার মধ্যে এই নিয়ে আগ্রার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন আইনজীবী রাজেশ কুলশ্রেষ্ঠ। মামলার শুনানি চলাকালীন এএসআই-এর আইনজীবী জানান, এটি কোনও মন্দির নয়। নিজের স্ত্রী মুমতাজের জন্য ভালোবাসার প্রতীক রূপে তাঁর সমাধিক্ষেত্রে তাজমহল বানিয়েছিলেন শাহজাহান। একই সঙ্গে এএসআই-এর আইনজীবী এও স্পষ্ট করেন, তাজমহলের নাম পরিবর্তন করে ‘তেজোমহল’ বা শিবমন্দির হওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ‘কল্পনা মাফিক’।

তাজমহল আসলে মন্দির না সমাধিক্ষেত্র এই নিয়ে প্রথম বিতর্ক বাঁধে ‘স্বঘোষিত’ ঐতিহাসিক পিএন ওকের লেখা একটি গ্রন্থ ঘিরে। ওই গ্রন্থটিতে দাবি করা হয়প, তাজমহল আসলে ‘তেজোমহল’ এবং এই স্থাপত্তের ভিত্তিতে আসলে একটি শিবমন্দির ছিল। এরপরই তালে তাল মিলিয়ে তাজমহলকে হিন্দু মন্দির বলে দাবি করতে থাকে বিভিন্ন কট্টরপন্থী হিন্দুবাদী সংগঠন। তাজমহলের নাম বদলে ‘তেজোমহল’ করার দাবি নিয়ে সরব হয়ে আগ্রা আদালতে মামলা দায়ের করেন ছয় আইনজীবী। তারা তাজমহলের বন্ধ অংশগুলি খুলে দেওয়ারও দাবি জানান।

কিন্তু আজ স্পষ্টভাবে আগ্রা আদালতে এএসআই-এর আইনজীবী জানিয়ে দেন, তাজমহলের কোন অংশ খোলা থাকবে এবং কোন অংশ বন্ধ থাকবে এই নিয়ে ইতিমধ্যেই শীর্ষ ফয়সালা শুনিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে সেই নিয়ে অযথা আর জলঘোলা করার কোনও মানে হয় না।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here