নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওড়া: ভালভাবে পড়াশুনা শিখবে, এই আশায় গৃহশিক্ষক রেখেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু সেই শিক্ষকের হাতেই হেনস্থা হতে হল পড়ুয়াকে। গরম খুন্তির ছেঁকা দিয়ে দেওয়া হয় খুদেকে। মধ্যযুগীয় বর্বরতার অনন্য নিদর্শন দেখল হাওড়ার বেলুড়।

হোমটাস্ক না করার এমন বর্বরচিত ঘটনা বলে জানা গেছে। নির্মম এই ঘটনার অভিযোগ উঠল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পড়া না পারায় গৃহশিক্ষিকা তাঁরই এই স্কুলছাত্রের শরীরের বিভিন্ন অংশে গরম খুন্তির ছেঁকা দেন। অভিযুক্ত শিক্ষিকা চন্দ্রা কুমারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিগৃহিত ছাত্রের মা উষাদেবী জানিয়েছেন, আক্রান্ত ছাত্র হাওড়ার বেলুড় থানা এলাকার গিরিশ ঘোষ রোডের বাসিন্দা। হাওড়ার একটি বেসরকারী স্কুলের কেজি টু’এর ছাত্র সে। গত বৃহস্পতিবার এই ছাত্র পড়তে গিয়েছিল অভিযুক্ত শিক্ষিকা চন্দ্রাদেবীর কাছে। রাতে সেখান থেকে পড়ে ফিরে এলে নিগৃহীত ছাত্রের অভিভাবক দেখে গায়ে পোড়া দাগ। পেশায় ট্রাক চালক স্বামী মিথিলেশের রায়ের অনুপস্থিতিতে তিনি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান ছেলেকে।

শুক্রবার স্কুলে ছাত্র গায়ে ফোস্কা নিয়ে স্কুলে যায়। ক্লাস চলাকালীন স্কুলের শ্রেনী শিক্ষক লক্ষ্য করেন তার গায়ে বিভিন্ন জায়গায় ফোস্কার দাগ। সেই দাগ দেখে সন্দেহ হয় ক্লাসের শিক্ষকের। শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রায় আট থেকে দশটি পোড়া দাগ ছিল। এরপর শিক্ষক শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি জানায় তার গৃহশিক্ষক তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছেঁকা দিয়েছে।

এই ধরনের বর্বরতম ঘটনা জানতে পেরে স্কুলের পক্ষ থেকে ছাত্রকে অভিভাবকে ডেকে পাঠান হয়। অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগের পরামর্শও দেওয়া হয় স্কুলের তরফ থেকে। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে নিগৃহীত ছাত্রের পরিবারের তরফ থেকে বেলুড় থানায় অভিযোগ করা হয়।
পুলিশ সুত্রে খবর, পরিবারেরে পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here