মহানগর ওয়েবডেস্ক: একটি ছোট্ট ভিডিও। তাতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ক্লাসের মাঝে হঠাৎ নাচ করছেন এক শিক্ষক। ভিডিওটি সামনে আসতেই মুহূর্তে ভাইরাল। এর আগেও নানা ভাইরাল ক্লিপিংয়ে ক্লাসের মধ্যেই অনেক শিক্ষকদের ‘অশিক্ষকসুলভ’ কাজের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে এবং তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঢেউও উঠেছে। কিন্তু শিক্ষকের এই ক্লাসের মধ্যে নাচের এই দৃশ্য দেখে সবাই কিন্তু ওই ব্যক্তিকে রীতিমত বাহবা দিচ্ছেন।

কিন্তু হঠাৎ করে এই উলটপুরাণ কেন? আসলে কোনও চটুল নাচ নয়, ওই শিক্ষকের নাচ একেবারেই মজার। আর তাঁর বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিশুদের মজার ছলে শিক্ষাদানের জন্যই ক্লাসের মধ্যে নাচ করেন। ঠিক যেমন ‘তারে জমিন পর’ সিনেমায় ক্লাসের মধ্যে নাচ গান করতেন আমির খান।

আসলে আমাদের দেশের শহরাঞ্চল থেকে দূরে গেলে বোঝা যায় শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কালসার অবস্থাটা। প্রাইমারি স্কুলগুলিতে নেই ঠিকঠাক শিক্ষার পরিকাঠামো, না আছে শিক্ষাদানের বিজ্ঞানসম্মত উপায়। ব্ল্যাকবোর্ডের ওপর খড়ি নিয়ে অ, আ, ক, খ শিখিয়েই দায়িত্ব থেকে মুক্তি শিক্ষকদের। স্বাভাবিকভাবেই তা কখনই ছোট শিশুদের মনে পড়াশোনার প্রতি আকর্ষণ তৈরি করতে পারে না। আর তার ফলেই বাড়ে স্কুলছুটের সংখ্যা।

সেখানে যদি শহরের বেসরকারি নার্সারি, প্রি-নার্সারি স্কুলগুলিতে ঢুঁ মারা যায়, তাহলে দেখা যাবে অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে, গান গেয়ে-নাচ করে খুদেদের শিক্ষার পাঠ দিচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ফলে তা কিশলয় মনে অনেক বেশি প্রভাব ফেলছে। শিশুদের মনে পড়াশোনার প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি করছে।

আর এই পদ্ধতিটিই নিজের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করছেন কোরাপুটের লামতাপুর উচ্চ-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রফুল্ল কুমার পাথি। ইংরাজি,ইতিহাস বা ওড়িয়ার মতো বিষয় মজার ছলে নাচ-গান করে পড়ুয়াদের মনে একেবারে গেঁথে দিচ্ছেন তিনি। আর ওই মজার মজার গান লেখেনও তিনি নিজে। এতে কিন্তু ফলও মিলেছে হাতে নাতে। ওই স্কুলে কমেছে স্কুলছুটের সংখ্যা। বেড়েছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি ভালবাসা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here