kolkata news

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: জিন্নাতুল ফিরদৌস বীরভূমের মার গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৩ সালে মুর্শিদাবাদের মানিকপুর জুনিয়ার হাই স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান। শিক্ষিকার বাড়ি বীরভূমে কিন্তু শিক্ষকতা করতে তাঁকে যেতে হয় মুর্শিদাবাদে। স্কুল থেকে বাড়ির দূরত্ব ১৫০ কিলোমিটার।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত ওই চিকিৎসক, সে কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অতিরিক্ত বাস এবং ট্রেনে চলাফেরা করা যাবে না। জিন্নাতুল ফিরদৌসের একটি ৬ বছরের শিশু কন্যা রয়েছে তাকেও দেখাশোনা করতে হয় কারণ তিনি ছাড়া বাড়িতে অন্য কোন সদস্য নেই যে শিশুটিকে দেখাশোনা করতে পারবেন। চাকরি সূত্রে জিন্নাতুল আর স্বামী অন্য জেলায় থাকেন। একদিকে হূদরোগ অন্যদিকে ছয় বছরের শিশু কন্যার লালন-পালন এই দুয়ের কারণেই স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বারংবার আবেদন করার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ স্পেশাল গ্রাউন্ডে বদলির আবেদনের জন্য যে নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট এর দরকার তা তারা দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ শিক্ষিকার। রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর এবং মুর্শিদাবাদের ডিআই এর কাছে বারবার আবেদন জানানোর পরও কোনো সুরাহা পাননি ওই শিক্ষিকা ২০১৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

৭ ই ফেব্রুয়ারি বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের এজলাসে মামলার সমস্ত বিষয়ে শুনানির পর স্কুল কর্তৃপক্ষের কৈফত তলব করেন। কেন একজন অসুস্থ শিক্ষিকাকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট এর আবেদন এবং বদলির আবেদন গ্রাহ্য করা হল না তা আগামী ২৪ শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে জানানোর নির্দেশ দেন বিচারপতি। মামলার শুনানি চলাকালীন স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষের তরফে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ। মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী এদিন আদালতে জানান স্কুল সার্ভিস কমিশন ‘ট্রান্সফার ইন স্পেশাল গ্রাউন্ড রুল’ ২০১৫ অনুযায়ী কোনও শিক্ষিকা যদি কোনও স্কুলে পাঁচ বছরের বেশি শিক্ষকতা করেন এবং স্বামী অথবা স্ত্রীর মধ্যে যে কোনও একজন অসুস্থ এবং বাড়ি থেকে স্কুলে দূরত্ব ৫০ কিলোমিটারের বেশি হয় অথবা কেউ যদি সিঙ্গেল মাদার হন, তাহলে স্পেশাল গ্রাউন্ড টান্সপার হতে পারেন। তাতে করে স্কুল কর্তৃপক্ষ নো অবজেকশন কোনোভাবেই আটকে রাখতে পারেন না কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ তার চূড়ান্ত অবমাননা করেছে বিচারপতির নির্দেশকে।

মামলার বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি রাজর্ষি নির্দেশ দেন আগামী ১৬ ই মার্চের মধ্যে মানিকপুর জুনিয়ার হাই স্কুলের পরিচালন কমিটির প্রধানকে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে এবং কেন শিক্ষিকার বদলি আটকানো হল এবং কেন তাঁকে নো অবজেকশন দেওয়া হবে না ওই দিনই জানাতে হবে আদালতে, নির্দেশ বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here