সরকারি প্রকল্পে জমছে দুর্নীতির পাহাড়! খোঁজ নিতে সোজা উপভোক্তাদের দরবারে পিকে

0
72

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও সরকারের কাজকর্ম নিয়ে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ ও মতামত জানাতে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি চালু করেছে রাজ্য সরকার। টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে এবং ই-মেল পাঠিয়ে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবার আরেক কদম এগিয়ে নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন।

মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের কাছে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে বিভিন্ন সরকারি যোজনায় বিগত তিন বছরের উপভোক্তাদের ফোন নম্বর ও ঠিকানা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। ওই তথ্য পাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের টিমের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করবেন। প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা তাঁরা ঠিকমতো পাচ্ছেন কিনা সে সম্পর্কে সরাসরি তাঁদের কাছ থেকেই জানতে চাওয়া হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

ওই সূত্রের দাবি, আগামী ২৬ অগস্টের মধ্যে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সমস্ত উপভোক্তাদের ফোন নম্বর পাঠাতে জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পটি এরাজ্যে ‘বাংলার বাড়ি’ নামে চালায় রাজ্য সরকার। সম্প্রতি এই প্রকল্পে সব থেকে বেশি কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে। ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতেও ওই প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির বহু অভিযোগ জমা পড়েছে। এবার প্রশান্ত কিশোরের টিমের সদস্যরা ওই প্রকল্পের প্রাপকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। প্রকল্পের টাকা তারা ঠিকমতো পেয়েছেন কিনা ঘরের মান কেমন তা জানতে চাওয়া হবে। এছাড়াও যেসব প্রকল্পে উপভক্তারা সরাসরি অর্থ সাহায্য পাচ্ছেন তাঁদের ফোন নম্বর, ঠিকানা চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

নবান্নের এক কর্তা বলেন, “৩০ অগস্টের মধ্যে ‘সমব্যথী’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের বিস্তারিত বিবরণ জানাতে বলা হয়েছে। গীতাঞ্জলি, বিধবাভাতা, বার্ধক্যভাতার উপভোক্তাদের বিষয়ে রাজ্য থেকে তাঁদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর চেয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু করেছি।” মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নির্দেশ আসার পর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জেলাগুলোতে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। বিডিও-র মাধ্যমে উপভোক্তাদের ফোন নম্বর জেলা পরিষদে পাঠাতে পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের বলা হয়েছে।

আবাসন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে প্রতি জেলায় তিন বছরে গড়ে ৪০ হাজার ঘর তৈরি হয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার ফোন নম্বর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জমা পড়ার কথা। ওই প্রকল্পে উপভোক্তাদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করবার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর এ বিষয়ে তৃণমূলস্তরে খোঁজখবর নিয়ে সবকিছুর বিষয়ে অবগত হতে চাইছে। উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিশেষ আধিকারিক ও কর্মীবাহিনী তৈরি করা হবে। পরবর্তীতে উপভোক্তাদের অভিযোগ নথিভুক্ত করে প্রয়োজন অনুসারে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে। পঞ্চায়েতের কাজের সুফল কতটা নীচুতলায় পৌঁছেছে সে বিষয়ে অবগত হতে প্রশান্ত কিশোরের টিমের সদস্যরা উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন।

লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর হৃত জনসমর্থন ফিরে পেতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ দূর করা তার অন্যতম। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধীরাও। বিধানসভার বিগত অধিবেশনে বাম কংগ্রেস বিজেপি তিন বিরোধীপক্ষই ওই প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়। রাজ্য কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা বিধায়ক ডঃ সুখবিলাস বর্মার অভিযোগ, বাংলা আবাস যোজনা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। উপভোক্তাদের অনেকের কাছেই সরকারি টাকা পৌঁছায়নি। সিপিএমের পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, বাংলা আবাস যোজনায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হয়েছে। ঠিকমতো নজরদারি হয়নি। বিজেপি নেতা মনোজ টিগ্গা বলেন, দুস্থদের অনেকেই সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শাসকদলের ঘনিষ্ঠদের সুযোগসুবিধার বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অবশ্য দাবি, সরকারি এই সুযোগসুবিধা নিয়ে বাম আমলে বহু অনিয়ম হয়েছে। আমাদের সময়ে গরিবরাই বাংলা আবাস যোজনার সমস্ত সুবিধা পেয়েছেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here