kolkata news
Highlights

  • বাগনানের নবম শ্রেণির ছাত্রী ঈশিতা দত্ত খুনের ঘটনার দায়ে দু’জনের সাজা ঘোষণা করল উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালত
  • বৃহস্পতিবার উলুবেড়িয়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (২) মাননীয় রতনকুমার দাস মূল অপরাধীদের মধ্যে অন্যতম সুস্মিতা মণ্ডলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন
  • পাশাপাশি দোষ আড়াল করার চেষ্টার দায়ে তার স্বামী মহিতোষ মণ্ডলের এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক


নিজস্ব প্রতিনিধি, উলুবেড়িয়া:
বাগনানের নবম শ্রেণির ছাত্রী ঈশিতা দত্ত খুনের ঘটনার দায়ে দু’জনের সাজা ঘোষণা করল উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালত। বৃহস্পতিবার উলুবেড়িয়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (২) মাননীয় রতনকুমার দাস মূল অপরাধীদের মধ্যে অন্যতম সুস্মিতা মণ্ডলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দোষ আড়াল করার চেষ্টার দায়ে তার স্বামী মহিতোষ মণ্ডলের এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক। ঈশিতা দত্তের পক্ষের আইনজীবী ত্রিদিবেশ নন্দ জানান, বিচারক অন্যতম মূল অপরাধী সুস্মিতা মণ্ডলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও তার স্বামীর এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে আট মাস জেলে ছিলেন। ফলে তিনি আর চার মাস সাজা খাটবেন। তবে এই ঘটনায় মূল আর এক অভিযুক্ত সুস্মিতাদের ছেলে নাবালক হওয়ায় জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে তার বিচার চলছে। খুনের এক বছর সাত মাসের মধ্যে রায় ঘোষণা করল আদালত।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২০১৮ সালে ২৫ জুলাই বাগনান আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ঈশিতা দত্তকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে মা ও ছেলে মিলে খুন করে। গলায় নাইলন দড়ি পেঁচিয়ে খুন করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে কোনও ভারী জিনিস দিয়ে মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়। মৃতদেহ হাত-পা বেঁধে খাটের নীচে লুকিয়ে রাখে সুস্মিতারা ও ঘরে তালা দিয়ে তামিলনাড়ুর কাঞ্জিভরমে পালিয়ে যায় তারা। পরদিন ২৬ জুলাই পুলিশ তালা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার করে খাটের তলা থেকে। ঘটনার দিন দশেক পর সুস্মিতাদের পুলিশ চেন্নাই থেকে গ্রেফতার করে। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন সুস্মিতা জেল হেফাজতেই ছিল। আর মহিতোষ জামিনে মুক্ত ছিল। বুধবার তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তাদের সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। এদিন আদালতে হাজির ছিলেন ঈশিতার বাবা বিমল দত্ত। তিনি বলেন, সুস্মিতার ক্ষেত্রে আদালতের রায়ে আমরা খুশি। কিন্তু মহিতোষের ক্ষেত্রে আদালতে রায়ে আমরা খুশি নই। তার আরও বেশি সাজা হতে পারত। বিমলবাবু ও তার আইনজীবী ত্রিদিবেশ নন্দ বলেন, আমরা এর বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাব। এজন্য তারা পুলিশের দিকেই আঙুল তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ তদন্তে গাফিলতি করেছে। এজন্যই মহিতোষের গুরুপাপে লঘুদণ্ড হল। এই খুনের ঘটনায় আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।

পুলিশ ও ঈশিতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন ঈশিতা বিকেল পাঁচটা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হয় প্রাইভেট টিউশন পড়ার জন্য। রাত সাতটা নাগাদ তার মা মিঠু দত্ত মেয়েকে আনতে যান। সেখানে তিনি জানতে পারেন মেয়ে ওইদিন পড়তে যায়নি। পরে বন্ধুদের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন শুভময় মণ্ডল নামে এক কিশোরের সঙ্গে ঈশিতাকে শেষ দেখা গিয়েছিল। আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় তাদের দেখা গিয়েছিল। এরপর তারা শুভময়দের ভাড়া বাড়ি নবাসনের সাঁতরাপাড়ায় যান। সেখানে তারা দেখেন শুভময়দের কামরায় তালা ঝোলানো। এরপর তারা আরও খোঁজখবর করেন। ওইদিন রাতেই তারা বাগনান থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। পরদিন সকালে তারা আবার শুভময়দের গ্রামের বাড়ি শ্যামপুরের ঝুমঝুমিতে যান। সেখানেও তারা ঈশিতার কোনও খোঁজ পাননি। এদিকে বাড়ির মালিক তাদের জানাযন, জানালা খুলে পা-দেখা যাচ্ছে। এরপর পুলিশ গিয়ে তালা ভেঙে ঈশিতার মৃতদেহ উদ্ধার করে।

ঈশিতার পরিবারের লোকেরা শুভময়দের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেন। পুলিশও তদন্ত শুরু করে। ঘটনার ৯দিনের মাথায় পুলিশ তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের কাঞ্জিভরম থেকে তাদের গ্রেফতার করে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে শুভময় ও ঈশিতা পূর্ব পরিচিত। তাদের মধ্যে সম্পর্কও ছিল। সেই সম্পর্ক নিয়ে বিবাদের জেরেই এই খুন বলে পুলিশ মনে করছে। যদিও সম্পর্কের কথা মানতে নারাজ ঈশিতার পরিবারের লোকেরা। এই খুনের ঘটনায় বাগনানে সাড়া পড়ে যায়। খুনের ঘটনার প্রতিবাদে ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে এলাকার লোকেরা বনধ, মোমবাতি মিছিল, প্রতিবাদ সভা করে। প্রতিবাদে অংশ নেয় স্কুল কলেজের ছেলেরা। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here