kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: সর্দি, কাশির উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া এক রোগীর মৃত‍্যুর সঠিক কারণ জানাতে, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের ব‍্যবস্থা করতে এবং হাসপাতালে স্যনিটাইজের দাবিতে বিক্ষোভ। বিক্ষোভে শামিল হলেন আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে অস্থায়ী কর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয় হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে। পরে আরামবাগ থানার পুলিশ ও ডেপুটি ম‍্যাজিস্টেট পর্যায়ের এক আধিকারিক হাসপাতালে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। সেই সঙ্গে হাসপাতাল স‍্যানিটাইজের কাজও করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার জ্বর, সর্দি ও কাশির উপসর্গ নিয়ে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের মহিলা বিভাগে ভর্তি হন ষাটোর্ধ্ব এক মহিলা। বাড়ি আরাবাগের তিরোল গ্রাম পঞ্চায়েতের মই গ্রামে। হাসপাতালে অবস্থার অবনতি ঘটলে আরামবাগ কোয়ারেন্টিন সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এর পরই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। এরপর আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালের কর্মীরা মহিলার মৃত্যুর সঠিক তথ্য প্রকাশ করার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান।  এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম অর্থাৎ পিপিই-র  দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। সেই সঙ্গে সমস্ত হাসপাতাল চত্বরও স‍্যানিটাইজ করার দাবি তোলেন বিক্ষোভকারীরা। হাসপাতালের সহকারী সুপারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন অস্থায়ী কর্মীরা।

যদিও ওই মহিলার পরিবার এবং স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, গত কয়েক বছর ধরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। এক সপ্তাহ আগেও হাসপাতালে ভর্তি হলে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার সকালে আবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের মহিলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। এরপর তাঁর লালারস সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এবং তাকে আরামবাগ কোয়ারেন্টিন সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর পরিবারের দুই সদস্যকে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের বাকি সদস‍্যদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বলা হয়েছে। বাইরে বের না হওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিন কিছুক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর আরামবাগের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের এক আধিকারিক ঘটনাস্থলে আসেন। কর্মীদের বুঝিয়ে সহকারী সুপারকে ঘেরাও মুক্ত করেন তিনি। পরে তিনি জানান,  কর্মীদের বোঝানো হয়েছে। ওরা একটু আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। মেডিক‍্যাল বিষয়টা সম্পর্কে ওদের ধারণা ঠিকমতো নেই। ওদের আশ্বস্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টা বুঝিয়ে সহকারী সুপারকে ঘেরাওমুক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি আরও জানান, একটা মৃত‍্যু হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। তবে কী কারণে মৃত‍্যু, তা মেডিক‍্যাল অফিসাররা বলবেন। বিক্ষোভ ওঠার পর দমকল এবং পুলিশের সহযোগিতায় হাসপাতালে স্যানিটাইজ করার কাজ শুরু হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here