kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, পূর্ব বর্ধমান: এবার আউশগ্রাম থেকে দুর্গা পাড়ি দেবে কলকাতায়। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের দ্বারিয়াপুরের ডোকরার দুর্গা প্রতিমা এবার শোভা পাবে কলকাতার একটি বড় পুজো মণ্ডপে। তাই নাওয়া খাওয়া ভুলে এখন মূর্তি তৈরিতে চরম ব‍্যস্ত ডোকরাপাড়ায় শিল্পীরা। মোট ১৪ জন শিল্পীর অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি হচ্ছে ১০ ফুটের দুর্গা প্রতিমা। মা দুর্গার পাশাপাশি মণ্ডপে আলাদা আলাদাভাবে শোভা পাবে লক্ষী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিক। গ্রাম থেকে সপরিবারে দুর্গা যাবে কলকাতায়। সেজন্য প্রতিটি দেব দেবীর মূর্তিকে পৃথকভাবে তৈরি করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষে মূর্তিগুলি পুজো উদ্যক্তারা নিয়ে  যাবে বলে জানা গিয়েছে।

বরাত পাওয়া এই দুর্গা মূর্তিটি তৈরি করতে প্রায় ৫ কুইন্টাল পিতল, ৩০ কুইন্টাল কয়লা, ৪৫ কুইন্টাল কাঠ, মোম ৫০ কেজি ও ৩০ কেজির মতো ধুনোর লেগেছে । শিল্পীরা জানিয়েছেন, মূর্তির বিশেষত্ব এখানে দুর্গার পাশাপাশি অনান‍্য দেব-দেবীরাও পদ্মের উপরে অধিষ্ঠিত থাকবে। এখন মূর্তি তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। গয়নার কিছু কাজ শুধুমাত্র বাকি রয়েছে। সরকারি আর্ট কলেজের এক পড়ুয়া ওই পুজোর মণ্ডপ তৈরির দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর মাধ্যমেই মাস চারেক আগে ডোকরার দুর্গা তৈরির বরাত পান আউশগ্রামের শিল্পীরা। মূর্তি কিভাবে তৈরি করা হবে, তারও রূপরেখা দিয়ে দেওয়া হয়। সেই স্কেচ অনুযায়ীই মূর্তি তৈরি হচ্ছে।

লস্ট ওয়াক্স মেটাল পদ্ধতির দ্বারিয়াপুরের এই প্রাচীন শিল্পকর্মের খ্যাতি ছড়িয়ে আছে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীরা বিভিন্ন সময়ে এই ডোকরা শিল্পকর্মের আঁতুড়ঘর দেখার জন্য ছুটে এসেছেন দ্বারিয়াপুরে। মূলত পিতলের মাধ্যমে ডোকরার জিনিস তৈরি করা হয়। প্রথমে ধুনো, মোম ও তেল মিশিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয়। তা দিয়ে সূক্ষ্ম কারুকার্য করে মডেলগুলি তৈরি করা হয়। তারপর সেগুলিকে কাদামাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। রোদে শুকিয়ে নেওয়ার পর তাতে ফের মাটির প্রলেপ দিয়ে আগুনে পোড়ানো হয়। তখন ভিতরের মোম ও ধুনো মুখ দিয়ে গলে বেরিয়ে গেলে, সেখানে পিতল গলিয়ে ঢেলে দেওয়া হয়। পরে লোহার সরু কাঁটা দিয়ে মাটির মণ্ডকে গুঁড়িয়ে বের করে দেওয়া হয়। এভাবেই তৈরি হয় ডোকরার সামগ্রী।
শিল্পী শুভ কর্মকার বলেন, কলকাতার বেলেঘাটা ৩৩ পল্লীর পুজো মণ্ডপে এই দুর্গা প্রতিমা এবার পূজিতা হবে। তবে এতবড় কাজের বরাত আগে কোনওদিন আসেনি। এই দুর্গা প্রতিমাটি বানাতে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে।আরেক শিল্পী মুকুল কর্মকার বলেন, আমাদের হাতের তৈরি দুর্গা প্রতিমা দেশ বিদেশে যায়। তবে যে টাকায় এবারের দুর্গা প্রতিমাটির বরাত নেওয়া নেওয়া হয়েছিল, মূর্তি তৈরি করতে তার থেকে অনেকবেশী টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। যদিও তাতে কোনও সমস্যা হবে না বলেই আশ্বাস দিয়েছেন পুজো উদ‍্যোগতারা। তবে এত বড় মূর্তি তৈরি করতে পেরে ভালোই লাগছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here