india china

মহানগর ওয়েবডেস্ক: প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়মমাফিক টহলদারিকে বাধা দিচ্ছে চিনের সেনারা। আজ বিদেশমন্ত্রক থেকে এই খবর জানিয়ে বলা হয়, ভারত সীমান্ত পরিচালন ব্যবস্থায় সবসময়ই দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে এসেছে। মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়, ”ভারতীয়দের সমস্ত গতিবিধিই সম্পূর্ণ ভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার আমাদের দিকেই রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী একবারও সিকিমের পশ্চিম সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করেনি। ভারতীয় সেনারা ভারত–চিন সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার মেনে চলার বিষয়ে যথেষ্ট অভ্যস্ত।”

ভারতীয় সেনাদের সমস্ত গতিবিধিই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ভারতের দিকেই সীমাবদ্ধ। তা সত্ত্বেও চিনের দিক থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর টহলদারিতে নানা ভাবে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানানো হয় বিদেশমন্ত্রক সূত্রে। সীমান্তের নিয়মনীতি মেনে চলার ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনা বাহিনী যথেষ্ট দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছে জানিয়ে সেনাবাহিনী যে ভারতের সার্বভৌমত্ব ও সুরক্ষার বিষয়ে দায়বদ্ধ সে কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক কালে একাধিকবার লাদাখ সীমান্তে চিন বাহিনীর দিক থেকে সীমান্ত অতিক্রমণের ঘটনা ঘটেছে যার ফলে কিছুদিন অগেই দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। গালওয়ান নদীর তীরে চিন সেনা ছাউনি তৈরি করছে জানার পর ভারতের পক্ষ থেকে ওই সীমান্তে বেশি করে সেনা মোতায়েন করা হয়। এই গালওয়ান নদীর তীরই ছিল ১৯৬২ সালে ভারত–চিন যুদ্ধের অন্যতম উৎসস্থল।

সীমান্তে চিন সেনাবাহিনীর তৎপরতার সঙ্গেই পূর্ব লাদাখের আকাশসীমায় চিনা হেলিকপ্টার উড়তে দেখা যায়। প্রত্যুত্তরে ভারতীয় বিমান বাহিনীও ওই অঞ্চলে সুখোই–৩০ বিমান নিয়ে টহলদারি চালাতে শুরু করে। মঙ্গলবার চিন সরকারের মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস লেখে, উত্তর লাদাখ অঞ্চলে গালওয়ান উপত্যকায় ভারতের অবৈধ সামরিক নির্মাণের প্রত্যুত্তরে চিন সেনাবাহিনী সীমান্তের চিনের ভূখণ্ডে তাদের সুরক্ষাকে মজবুত করতে শুরু করেছে। ওই প্রতিবেদনে ডোকলাম ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয় ভারতের অবৈধ অনুপ্রবেশের যে কোনও চেষ্টার কঠিন জবাব দিতে চিন সেনাবাহিনী প্রস্তুত।

গত সপ্তাহে অবশ্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিফ জেনারেল এমএম নারাভানে দুই দেশের সাম্প্রতিক সংঘর্ষকে যথেষ্ট গুরত্ব দিতে অস্বীকার করেন। উনি জানান, একটি কী দু’টি জায়গায় ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এরকম প্রায়ই হয়। অনেক সময় গ্রাউন্ড কম্যান্ডারের বদল ঘটলে এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। ইতিমধ্যে অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গতকালই ভারতকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, লাদাখ বা দক্ষিণ চিন সমুদ্র, যেখানেই সীমান্ত নিয়ে সমস্যা হোক, সে সবই চিনের হুমকির ইঙ্গিত হিসেবেই ধরা উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here