ডাকছে একুশ, কিন্তু স্বীকৃতিতে ভরা মমতার প্রকল্পের ভিড়ে ভো-কাট্টা দশা বিজেপির

0

মহানগর ওয়েবডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় এসে মমতা সম্পর্কে নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য ছিল মুখ্যমন্ত্রী নাকি ‘স্প্রিড ব্রেকার’। কেন্দ্রের একাধিক জনমুখী প্রকল্প রাজ্যে আটকে দেওয়ার মূল কারিগর তৃণমূল নেত্রী। উদাহরণ স্বরূপ তিনি তুলে ধরেছিলেন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে। মোদীর ভাষণের জেরে বাড়তি অক্সিজেন নিয়ে উন্নয়ন ও অনুন্নয়নের জোর লড়াইয়ে নেমেছিল রাজ্য বিজেপির নেতা নেত্রীরা। তবে তথ্য বলছে অন্যকথা। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় জনমুখি প্রকল্পে কোনও অংশে কম যায় না মমতার পশ্চিমবঙ্গ। আর সেই শিরোপা রাজ্যের মুকুটে উঠে এসেছে খোদ কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের হাত থেকেই। যার জেরেই এবার বাংলায় একুশ দখলে মরিয়া বিজেপি পড়ল ধর্মসঙ্কটে।

তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলায় জনমুখী প্রকল্পের বহর বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। আর সেই সমস্ত প্রকল্পের মধ্যে একাধিক প্রকল্পই স্বীকৃতি কুড়িয়ে নিয়েছে কেন্দ্রের থেকে। তবে শুধু কেন্দ্র নয়, বাংলার প্রকল্প প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বমঞ্চেও। রাজ্যের মেয়েদের জন্য রাজ্যসরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্পকে স্বীকৃতি দিয়েছিল রাষ্ট্রপুঞ্জও। তবে শুধু কন্যাশ্রী নয়, কেন্দ্রের তরফে দেশের মধ্যে সেরার শিরোপা তুলে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের সবুজসাথী, উৎকর্ষ বাংলা, নির্মল বাংলা, ১০০ দিনের কাজের পাশাপাশি কন্যাশ্রির হাতেও। আর এই সবের জেরেই ঘোর বিপাকে রাজ্য বিজেপি। নবান্ন দখলের লক্ষ্যে একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করলেও জনমুখী প্রকল্প ও উন্নয়নের প্রসঙ্গে খুব একটা রা কাড়তে নারাজ বিজেপি। এই প্রসঙ্গে এক বিজেপি নেতার কথায়, আমাদের সরকারই বলছে তৃণমূল সরকার ভীষণ ভাল কাজ করছে। যার জেরে রাজ্য সরকারের হাতে পুরস্কারও তুলে দিচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এহেন পরিস্থিতিতে কোন মুখে আমরা রাজ্যসরকারের বিরোধিতা করব? গোটা ঘটনার জেরে জোর অস্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে ৬ মুরলীধর সেন লেনে। লোকসভা নির্বাচনে ১৮ টি আসনে জয় হাসিল করার পর, বিজেপির তরফে অনুমান করা হচ্ছিল নবান্ন দখল শুধু সময়ের অপেক্ষা। তবে লড়াইটা যে এতটা সহজ হবে না তা এখন হাড়ে হাড়ে বুঝছেন বিজেপির শীর্ষ রাজ্য নেতারা। ফলে একুশের লড়াইয়ে কোন পথে দল এগোবে তা নিয়ে আরও বেশি করে মাথা ঘামাচ্ছেন দিলীপ-মুকুলরা।

এদিকে জনকল্যান মুলক প্রকল্পের মুল্যায়ন করে এমন একটি সর্বভারতীয় সংস্থা পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২ ডজন প্রকল্পকে ভারত সেরার স্বীকৃতি দিয়েছে। যা দেশের মধ্যে অন্যন্য নজির। তথ্য বলছে এই রাজ্যের প্রায় ৯ কোটি মানুষ কোনও না কোনও ভাবে সরাসরি সরকারের ভর্তুকি পাচ্ছেন। আর এই সমস্যার কথা তোলা হয়েছে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র কানেও। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন। এদিকে বিজেপির দাবি, প্রকল্প একাধিক কিন্তু তার ভিতরে দুর্নীতিও প্রচুর। তাই রাজ্যের কোনও প্রকল্পকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে তা যেন খতিয়ে দেখা হয় কেন্দ্রের কাছে সেই আর্জি জানাতে চলেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here