নিজস্ব প্রতিবেদক, বনগাঁ: পরিবার বহু আগে থেকেই রাজনৈতিক ভাবে ছিল দ্বিধাবিভক্ত। সময় তাতে কোন প্রলেপ দিতে অক্ষম হয়েছে। বরঞ্চ সময় যত এগিয়েছে ততই পরিবারের ফাটল চওড়া হয়ে চলে এসেছে প্রকাশ্যে। সেই বিরোধ নতুন করে আবারও চলে এল সামনে, দেশের প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার গাইঘাটার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি মতুয়া ধর্ম সম্প্রদায়ের কাছে কার্যত পরমতীর্থ। ওই ঠাকুরবাড়িতেই থাকেন সর্বজন পূজনীয় ও শ্রদ্ধেয় ‘বড়মা’ বীণাপানি ঠাকুর। সেই ঠাকুরবাড়ির পাশের মাঠেই আগামি ২ ফেব্রুয়ারি জনসভা করতে আসছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু এখন সেই মাঠ নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনীতির টানাপোড়েন। যার জেরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে এখন কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ তথা বড়মার বড় পুত্রবধূ মমতাবালা ঠাকুর এদিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী যে মাঠে সভা করতে আসছেন তা এই ধরনের সভা করার জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত। ওখানে ভক্তেরা এসে নানা আচার পালন করেন, বিশ্রাম নেন। প্রধানমন্ত্রী যদি ভক্তদের ভাল করার জন্যই এখানে আসার পরিকল্পনা নেন তাহলে ভক্তদের অসুবিধার মধ্যে ফেলে এখানে সভা করছেন কেন? মমতাবালা ঠাকুরের ছুঁড়ে দেওয়া এই প্রশ্নের জেরে মুখ খুলেছেন বড়মার ছোট ছেলে তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের ছোট ছেলে শান্তনু ঠাকুর। তিনি জানিয়েছেন, মাঠ নিয়ে কোন সমস্যা নেই। নির্ধারীত দিনে নির্ধারীত সময়েই প্রধানমন্ত্রীর জনসভা হবে এবং মতুয়াদের পাশাপাশি বহু সাধারন মানুষও তাতে যোগদান করবেন।

একই পরিবারের এই বিপরীতমুখী মনোভাব ও রাজনৈতিক আনুগত্যের জেরে এলাকায় কিছুটা হলেও চাপা উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এরই মাঝে শোনা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলেই নাকি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে শান্তনু ঠাকুরের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে শান্তনু বা মমতাবালা মুখ না খুললেও এলাকাবাসীরা ফের আরেকবার একই পরিবারের দুই সদস্যের এই মুখোমুখি লড়াইকে খুব একটা ভাল চোখে দেখছে না। তারা চাইছে ঠাকুরবাড়ি ঠাকুরবাড়ির মতই থাক, সেখানে যেন রাজনীতি বারবার পাঁচিল না তোলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here