নিজস্ব প্রতিবেদক, আলিপুরদুয়ার: সালটা ১৯৬১। সেই বছরেই উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার শহরের কাছে কালচিনির নিমতিঝোরা চা বাগানে পা রাখলেন কবিগুরুর ভাতুষ্পু্ত্র সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর। সঙ্গে এলেন সাহিত্যিক প্রবোধ সান্যাল, চারুচন্দ্র সান্যাল আর কবির ছাত্রী, গায়িকা সুচিত্রা মিত্র। উপলক্ষ ছিল বিশ্বকবির আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন। সেটাই ছিল সারা বাংলার পাশাপাশি গোটা দেশ মায় এশিয়ায় প্রথম কবিগুরুর আবক্ষ মূর্তি। সেই সময় যাতায়াত ব‍্যবস্থা ভালো না থাকায় হাতির পিঠে করে নিয়ে আসা হয়েছিল সেই মূর্তি। সেদিনের স্মৃতিচারণা করে একথাই জানালেন নিমতিঝোরা হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক পরিমল দে। কিন্তু এখন সেই মূর্তিই পড়ে আছে চরম অবহেলা আর অনাদরে।

পরিমলবাবু জানালেন, মূর্তি প্রতিষ্ঠার পরে বেশ কয়েক বছর মহা সমারোহে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত হত। কোলকাতা থেকে বিশিষ্ট গায়ক নাট‍্যকর্মীরা আসতো। এখন কিন্ত সেসব অতীত। যে স্থানে কবির মূর্তিটি রয়েছে যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে তা এখন গবাদি পশুর বিচরন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মূর্তির নিয়মিত দেখভাল বা কোনো পরিষ্কার হয় না। তা পরিষ্কার রাখার জন্য সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ কিছুই নেই। ২৫ বৈশাখ বা ২২ শ্রাবণে এলাকার স্কুল ছাত্রছাত্রীরা কেউ এসে কবির গলায় একটা মালা হয়ত পড়িয়ে দেন। স্থানীয় বাসিন্দা নিমতিঝোরা চা বাগানের শ্রমিক মোহন লোহার জানালেন,’আজ থেকে ১৫ বছর আগেও মহা সমারোহে পালিত হত ২৫ বৈশাখ। বাগানের আগের মালিক করতো সে সব অনুষ্ঠান। নুতন মালিক আসার পর কিছুই হয়না। অনাদারে পড়ে আছে। সংরক্ষণও হয়না, পরিষ্কারও হয়না। কিছুই হয় না এখন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here