Home Featured করোনাকালে বাঙালি বিজ্ঞানীর নয়া আবিষ্কার পকেট ভেন্টিলেটর, কীভাবে কাজ করবে এই ভেন্টিলেটর  

করোনাকালে বাঙালি বিজ্ঞানীর নয়া আবিষ্কার পকেট ভেন্টিলেটর, কীভাবে কাজ করবে এই ভেন্টিলেটর  

0
করোনাকালে বাঙালি বিজ্ঞানীর নয়া আবিষ্কার পকেট ভেন্টিলেটর, কীভাবে কাজ করবে এই ভেন্টিলেটর  
Parul

নিজস্ব প্রতিনিধি:  করোনা আবহে হাওড়ার শিবপুর নিবাসী বাঙালি বিজ্ঞানীর নয়া আবিষ্কার ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলে দিয়েছে সর্বত্র। তাঁর আবিষ্কৃত পকেট ভেন্টিলেটর নিয়ে এখন সর্বত্র জোর চর্চা চলছে। করোনা অতিমারী আবহে আলোচনার বিষয়ও হয়ে উঠেছে এই পকেট ভেন্টিলেটর। নেট দুনিয়া থেকে শুরু করে জাতীয় সংবাদমাধ্যমেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বাঙালি বিজ্ঞানীর এই আবিষ্কার।

একটানা দীর্ঘক্ষণ ধরে মাস্ক পরে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতির সমস্যা হওয়া থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্ট  সবেরই মুশকিল আসান হতে চলেছে এই পকেট ভেন্টিলেটর। দাবি আবিষ্কারক বিজ্ঞানী রমেন্দ্রলাল মুখোপাধ্যায়ের। এসব সমস্যার সমাধানের জন্যই বিশেষ এই যন্ত্র তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এই ভেন্টিলেটর বাতাসে ভাসমান বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস আটকাতেও সক্ষম হবে। অক্সিজেনের ঘাটতি তো মিটবেই, পাওয়া যাবে বিশুদ্ধ বাতাসও। প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সারাদিনের মাত্র তিন ঘন্টা একবার চার্জ দিলে কাজ করবে টানা ১০ ঘন্টা। এই নয়া আবিষ্কার সম্পর্কে বিজ্ঞানী রমেন্দ্রলাল মুখোপাধ্যায় জানান, এই বিশেষ যন্ত্রটির দুটো অংশ রয়েছে একটি পাওয়ার ইউনিট। অন্যটি ভেন্টিলেটর ইউনিট।  পাওয়ার  ইউনিটে আছে অন অফ সুইচ। সেখানে আছে একটি সকেট। যেখানে কানেক্টর বা জ্যাক লাগানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

আর আছে একটি নব। এই নবের  মাধ্যমে বাতাস, অক্সিজেন কতটা প্রয়োজন তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আর ভেন্টিলেটর ইউনিট  ভেন্টিলেটরের কাজ করে। এই ইউনিট বাইরে থেকে যে বাতাস টানা হচ্ছে তার মধ্যে যাতে কোনরকম ধুলো,  বাতাসের জীবাণু না থাকে তার জন্য ফিল্টার করছে।

তারপরেও বাতাসে যদি কোনোরকম জীবাণু থাকলে সেখানে স্ট্রং আল্ট্রাভায়োলেট ফিল্টার থাকছে। তার মাধ্যমে মেরে দেওয়া যাবে জীবাণু।  পাশাপাশি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস মেরে দেওয়ারও ক্ষমতা রয়েছে। এরপর পাম্পের মাধ্যমে  পাঠানো হচ্ছে মাস্কে। মাস্কে যাবার পর যে ব্যক্তি সেই মাস্ক পরবেন সেখান থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাতাস বেরোবে। সেই বাতাস বেরিয়ে এসে যন্ত্রের মধ্যে যাবে। এবার সেটা আরেকটা আলাদা আল্ট্রাভায়োলেট চেম্বারে মধ্যে যাবে। সেখানে সেই কার্বন ডাই অক্সাইড জীবাণুমুক্তকরণ হবে। তারপরে সেটা বাইরে বার হবে। সাধারণ মানুষকে অনেকক্ষণ ধরে মাস্ক পরে বাইরে থাকতে হচ্ছে বা অফিসে কাজ করতে হচ্ছে। এতে তাঁদের অসুবিধা হয়। তাঁদের সেই অসুবিধা দূর করার জন্যই এই যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে।

মাস্ক পরলে রক্তে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেয়ে আগামী দিনে মানুষের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাস্কের ব্যবহারে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। এই যন্ত্রের মাধ্যমে সেই অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে। যে কোনও সাধারণ মানুষ এটা ব্যবহার করতে পারবেন। আবার যাদের শ্বাসকষ্ট আছে, অ্যাজমা রোগীরা তাঁরাও এই যন্ত্র ব্যবহারে অনেকটাই উপকৃত হবেন। এছাড়াও কেউ যদি কোভিড আক্রান্ত হন তাহলে এই যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে।

তিনি বলেন, কোভিডের সময়ে শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তারপরেই মাথায় আসে সাধারণ মানুষের জন্য যদি কিছু একটা করা যায়। সেইজন্যই এই যন্ত্রটি আবিষ্কার করেছি। কত তাড়াতাড়ি রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ হতে পারে তা নিজের শরীরে পরীক্ষা করে দেখেছি। এই মেশিন শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত বাড়াতেও সাহায্য করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here