নাটকে মৌলবাদের প্রতিবাদ, ‘দুষ্কৃতী’ বাহিনীর কোপে নাট্যকর্মী

0
146

মহানগর ওয়েবডেস্ক: সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্র মৌলবাদের বিরুদ্ধে নাটকে সরব হয়ে আক্রান্ত নাট্যকর্মী। ১৫ অগাস্ট-এর রাতে নাট্যকর্মী শুভঙ্কর দাস শর্মার উপর অতর্কিত হামলা চালায় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী । যার জন্য তিনি এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ঘটনার জেরে সোশ্যাল মিডিয়াতে বইছে নিন্দার ঝড়।

ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছু বছর আগে কলকাতার অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের গাছতলাতে মন্দির গড়া নিয়ে প্রতিবাদ করেন শুভঙ্কর বাবু। সেখান থেকেই শুরু, তারপর যশোর রোডের গাছ কাটার ঘটনা নিয়ে ও সমাজের নানা বিষয়কে নিয়ে সেটা সরকারের পক্ষেই হোক কিংবা বিপক্ষে আন্দোলনের হোতা হিসাবে দেখা যেতে থাকে শুভঙ্কর বাবুকে। গত ১৫ অগাস্ট অ্যাকাডেমির সামনে মুক্তমঞ্চে আর্টিস্ট ইউনাইট-এর উদ্যোগে সাম্প্রদায়িকার বিরুদ্ধে ও ঘৃণার গণতন্ত্রের বিরোধিতা নিয়ে একটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানের শেষে রাতে ঘটে এই ঘটনাটি।

এই ঘটনার প্রত্যেক্ষদর্শী ও শভঙ্কর বাবুর সঙ্গে থাকা তাঁর বন্ধু সৈকত ঘোষ জানান, ”আমরা রাত ৮.২৭ নাগাদ রবীন্দ্র সদন থেকে একটি মেট্রো ধরে দমদম পৌছাই। সেখানে ট্রেন ধরার জন্য চাতাল বলে একটি জায়গা আছে সেখানে যাই আমরা। তাঁর কিছুক্ষণ পড়েই ১০-১৫ জন হুলিগান বাহিনী আমাদের উপর হামলা করে, চেহারা দেখে তাঁদের চেনার উপায় ছিল। তাঁর মধ্যে আমাকে ৫ জন ছেলে তুলে নিয়ে হুমকি দেয়। আর বাকি ১০ জন শুভঙ্কর দাস শর্মাকে কালিচরণ শেঠ লেনে নিয়ে গিয়ে অন্ধকার গলিতে বেধরক মারধর করে, চোখে বাম লাগিয়ে দিয়ে এমনভাবে মারা হয়েছে যেন শুভঙ্কর কাউকে চিনতে না পারে। এছাড়াও তাঁদের মারের ধরন এমন ছিল যাতে শরীরের কোথাও ক্ষত চিহ্ন যেন না দেখা যায় শরীরের ভিতরে চোট পায়। এই ঘটনা দেখে আমি দৌড়ে গিয়ে স্থানীয়দের জানাই কিন্তু কেউ এগিয়ে আসে না, তখন আমি বুঝতে পারি এটা প্রি-প্ল্যান এটা। এইভাবে প্রকাশ্যে কাউকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা খুবই আশঙ্কাজনক। এর প্রতিবাদে আমরা দমদমের ওই জায়গাতে সর্বস্তরের নাট্যকর্মীদের নিয়ে আন্দোলন করব।”

সৈকত বাবু এও জানান,”আমরা সঙ্গে সঙ্গে সিঁথি থানাতে যাই ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দু’জনকে আইডেনটিফাই করা গিয়েছে। সিঁথি থানা আমাদের অনেক সাহায্যে করেছেন আর তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।” সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্র মৌলবাদের বিরুদ্ধে নাটক করাতে এই পরিস্থিতির শিকার নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ গর্জে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। দেশের কিংবা রাষ্ট্রের যে কোনও বিষয় নিয়ে সাধারণ জনগণের সামনে তুলে ধরা একজন নাট্যব্যক্তির কাজ। দেশ-বিদেশে এইভাবেই নাট্যসমাজের শিল্পীরা নিজেদের আন্দোলন কিংবা সমাজের কাছে তাঁদের বার্তা পৌছাতে চান। শিক্ষিত ও সুস্থ সমাজে এটাই কাম্য। কিন্তু এর জন্য যদি তাঁদের উপর আক্রমণ নেমে আসে সেটা নিশ্চয়ই বাঞ্ছনীয় নয়। যেমনটা ঘটেছে কলকাতার নাট্যশিল্পী শুভঙ্কর দাস শর্মার সঙ্গে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here