kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: করোনা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে সবাইকে জনতা কারফিউ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। আর এরই সমর্থনে রবিবার ব্যাপক সাড়া পড়ল গোটা রাজ্যে।প্রধানমন্ত্রীর সেই আবেদনকে মান্যতা দিয়ে রবিবার সকাল থেকেই রাস্তা ছিল ফাঁকা, শুধুমাত্র ওষুধের দোকান ছাড়া বাজারের ও পাড়ার ভিতরের সমস্ত দোকানপাট ছিল বন্ধ। রাস্তায় সামান্য কিছু টোটো চালক রুজির টানে বেরলেও লোক না থাকায় তাদের হতাশ হতে হয়।

গত ৪০ বছরে কোনও রাজনৈতিক দল যা করতে পারেনি, তাই করে দেখাল করোনা ভাইরাস। করোনা প্রতিরোধে জনতা কারফিউ-কে সমর্থন করে রবিবার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকল রানাঘাটের পাইকারি সবজি মান্ডি। ডান হোক বা বাম, গত ৪০ বছরে কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের ডাকা বনধে বন্ধ থাকেনি রানাঘাটের এই সবজি  বাজার। কিন্তু রবিবার স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে সচেতন নাগরিক হিসেবে সেই সবজি বাজার বন্ধ রাখলেন ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে, করোনা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে জনতা কারফিউ-এর সমর্থনে যখন রানাঘাটের সমস্ত বাজারহাট বন্ধ, তখন ভিন্ন চিত্র রানাঘাটের দক্ষিণ পাড়ার একটি মুরগির মাংসের দোকানে। রবিবার সকাল থেকেই  ৪০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করছিলেন ওই মাংস বিক্রেতা। আর সেই মাংস কিনতে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। পরে স্থানীয় কিছু মানুষ  রানাঘাট থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে দোকানটি বন্ধ করে দেয়।

জনতা কারফিউ-তে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা একপ্রকার বনধের চেহারা নিয়েছে।সকাল থেকে দোকানপাট বন্ধ।হাতে গোনা কিছু দোকান খোলা। যানবাহন চলছে সামান্য।দু’একটি সরকারি বাস চলছে কলকাতা-মেদিনীপুরের মধ্যে।তবে কোলাঘাটের দেউলিয়া বাজারের ফুলবাজার একেবারেই বন্ধ।রাজ্যের অন্যতম বৃহত্তম এই ফুলবাজার বন্ধ থাকায় ভিনরাজ্যে ফুল সরবরহ একেবারেই বন্ধ।এর ফলে চরম ক্ষতিগ্রস্ত সবমিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডাকা জনতা কারফিউ যথেষ্টই প্রভাব পড়েছে।

জনতা কারফিউয়ে ব্যাপক সাড়া পড়ল খনি অঞ্চলে।এদিন সকাল থেকেই কোলিয়ারিগুলো ছিল কার্যত ফাঁকা। শুধু জরুরি বিভাগের কয়েকজন কর্মী ছাড়া দেখা নেই কারও। অন্যদিকে বাজার রাস্তাঘাট সুনসান। রাস্তায় চলছে না কোনও যানবাহন। অন্য বনধে যেমন যান চলাচল বন্ধ হলেই রাস্তায় বেশি ভাড়া নিয়ে চলাচল করে টোটো ও অন্য ছোট যানবাহন, এদিন রাস্তা থেকে বাসের পাশাপাশি টোটোও উধাও। অন্ডাল-উখরা ও অন্ডাল-দুর্গাপুর-আসানসোল রুটের প্রায় সব মিনিবাস পরিষেবা বন্ধ।এককথায় খনি এলাকায় এই জন্তা কারফিউ সফল বলেই মনে করছে এলাকার মানুষ। স্থানীয়দের মতে, নিজের স্বার্থে ও নিজের ভালর জন্য যদি একটা দিন নিজেদের ঘরের মধ্যে রাখা যায় তাতে ক্ষতি কি?

এদিকে, রবিবার সকাল থেকেই ব্যস্ত শিলিগুড়ি ছবিটা একেবারে পাল্টে গেল। অন্যদিনের মতো ভিড়ে ঠাসা হিলকার্ট রোড এদিন ছিল একেবারে জনশূন্য। শিলিগুড়ি জংশনের তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাল থেকে সকালে বাস ছাড়লেও যাত্রী ছিল হাতেগোনা। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি বাস আবার যাত্রীশূন্য অবস্থাতেই চলাফেরা করেছে। অন্যদিকে, শিলিগুড়ির লাগোয়া বেশ কয়েকটি চা-বাগানে এদিন একেবারে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। সকাল থেকেই কোথাও কোনও চা শ্রমিককে কাজে যোগ দিতে দেখা যায়নি। চা বাগানের কাজকর্ম ছিল বন্ধ। একই সঙ্গে শিলিগুড়ির নিউজলপাইগুড়ি স্টেশনে এদিন যাত্রী সংখ্যা ছিল অনেকটাই কম। শুধুমাত্র যে ট্রেন গুলি গতকাল রাতে যাত্রা করে রবিবার সকালে শিলিগুড়ির নিউজলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছয় শুধুমাত্র সেই ট্রেনে যাত্রীদের স্টেশনে দেখতে পাওয়া গিয়েছে। একই সঙ্গে শিলিগুড়ির প্রধান এয়ারভিউ মোড় সেবক মোড় এবং দার্জিলিং মোড় ছিল একেবারেই প্রায় জনশূন্য। শিলিগুড়ির প্রায় সমস্ত মার্কেট এবং বাজারঘাট, দোকানপাট ছিল বন্ধ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here